বারান্দায়
বসে বসে বৃষ্টি দেখছে আবির । তৃনার
কথা খুব মনে পড়ছে আজ , এমনি কোন এক
বৃষ্টির দিনে তৃনার সাথে দেখা হয়েছিল
আবিরের . .
নতুন কলেজ , নতুন নতুন মুখ , মনে নতুন
বাতাস , ভালোই দিন কাঁটছে আবিরের ।
সেদিন কলেজ থেকে ফেরার পথে শুরু হল
প্রচন্ড বৃষ্টি , যে যার মত ছুটছে ।
আবির বই খাতা শার্টের ভেতর
ঢুকিয়ে দৌড়াতে শুরু করল , ওদের
বাসা কলেজের কাছাকাছিই ছিল ।
কিছুদুর যাওয়ার পর খেয়াল করল কলেজের
ড্রেস পরা একটা মেয়ে রাস্তায় পড়ে আছে ,
আর ব্যাথায় কাতরাচ্ছে । আশেপাশে কিছু
উত্সুক জনতা দাঁত বের হাসছে ।
আবির মেয়েটাকে তোলার চেষ্টা করল
কিন্তু পারলনা পায়ে খুব
ব্যাথা পেয়েছে মনে হয় ।
চারদিকে তাকিয়ে রিকশা খুঁজছিল আবির ,
কোথাও কোন রিকশা নেই । বাধ্য
হয়ে মেয়েটাকে কোলে তুলে নিল আবির ,
মেয়েটি কোন বাধা দিলনা । আশেপাশের
লোকগুলোর হাসি যেন আরো বেড়ে গেল ।
মেয়েটিকে বাসায় নিয়ে আসার পর আবির
তার মাকে সব খুলে বলল । একটু পর আবির
একজন ডাক্তার নিয়ে আসল । খুব বড় কোন
সমস্যা হয়নি , বাম পা একটু
মচকে গিয়েছে । মেয়েটির নাম
ঠিকানা জেনে নিয়ে আবির বিকেলের
দিকে তাকে বাসায় পৌছে দেয় ।
নাম তৃনা , মানবিকে পড়ে , সেও নতুন
ভর্তি হয়েছে ।
তারপর থেকেই শুরু আবির আর তৃনার
একসাথে পথ চলা । নিয়মিত ক্লাস করা ,
বাবার সাথে লাইব্রেরীতে সময় দেয়া , আর
মাঝেমাঝে তৃনাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া ,
এভাবেই চলছিল আবিরের
সোনালী দিনগুলি । কিন্তু সুখের
সময়টা বড্ড তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়
আবিরের , এক বৈশাখী ঝড় তার সব কিছু
লন্ডভন্ড করে দেয় ।
আবিরের বাবার ক্যান্সার ধরা পড়ে ।
বাবার
সিকিত্সা করাতে গিয়ে আবিররা সহায়
সম্পদ সব বিক্রি করে দেয় , শেষ পর্যন্ত
লাইব্রেরীটাও বিক্রি করতে বাধ্য হয় ।
এত প্রতিকুলতার পরও আবির
HSCতে ভালো ফলাফল করে , কিন্তু তার
বাবাকে নিয়ে সব সময় দৌড়াদৌড়ির
মাঝে থাকায় ভার্সিটির জন্য
প্রস্তুতি নিতে পারেনি । তাই বাধ্য
হয়েই সেই কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়ে গেল
। আর তৃনাও যেহেতু আবিরকে চাড়া কোথাও
যাবেনা তাই সেও সেখানে ভর্তি হয়ে গেল ।
আবির তৃনাকে অনেক বুঝিয়েছিল
ভার্সিটিতে ট্রাই করতে , কিন্তু
তৃনা কিছুতেই রাজী হয়নি ।
অনার্সে ভর্তির কিছুদিন পরই তৃনার
বাবা ওর বিয়ে ঠিক করে ফেলে ।
ছেলে আমেরিকা থাকে এটাই সবচেয়ে বড়
যোগ্যতা ! তাই তৃনার
বাবা দেরী করতে রাজী নন ।
তাচাড়া ততদিনে আবিরের ব্যাপারেও
জেনে গেছেন তিনি ।
আবির
জানতো সে তৃনাকে ধরে রাখতে পারবেনা ,
তার সেই যোগ্যতা নেই । বিয়ের দুদিন
আগে তৃনা এসেছিল আবিরদের বাসায় বিদায়
নিতে । দু জন প্রচন্ড কেঁদেছিল সেদিন ,
ওদের কাঁন্না দেখে আবিরের মাও কাপড়ে মুখ
লুকিয়ে কেঁদেছিল । কিন্তু নিয়তি বড়ই
নির্মম , তার কাছে কাঁন্নার কোন মূল্য
নেই . .
ভাইয়্যা ৫টা বাঁজে , টিউশনির সময়
হয়ে গেছেতো !
ছোট বোন টুম্পার
ডাকে বাস্তবে ফিরে আসে আবির ,
টিউশনির কথা ভুলেই গিয়েছিল । কিন্তু
না , আজ টিউশনিতে না গেলে চলবে না ।
আজ বেতন পাবার কথা , যত ঝড় বৃষ্টিই
হোক আজ যেতেই হবে ।
সামনে আবিরের অনার্স ফাইনাল , পড়ার
অনেক চাপ । তারপরও
সে তিনটা টিউশনি করে ।
দু বছর আগে আবিরের বাবা মারা যায় ,
অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো যায়নি ।
কিন্তু এই সংসারটাকে বাঁচাতে হবে , তার
মায়ের মুখে , ছোট বোনের
মুখে হাসি ফোঁটাতে হবে ।
ওর ছোট বোনটার একটাই স্কুল ড্রেস , গত
ছয়মাস ধরে ওটা পরেই সে স্কুল যাচ্ছে ।
কিন্তু কাউকে কিচ্ছু বলছেনা , আবির ঠিক
করেছে বেতন পেলেই টুম্পাকে একটা স্কুল
ড্রেস বানিয়ে দেবে । আর সাথে মায়ের জন্য
একটা শাড়ি ।
টুম্পা . .
জ্বী ভাইয়্যা . .
একটু শুনে যা . .
বল . .
চিন্তা করিস না , কালকেই তোকে নতুন
ড্রেস বানিয়ে দেব . .
আমার জন্য ড্রেস কিনতে হবেনা , তোমার
জন্য ড্রেস কিন আগে । একটা পেন্ট আর
দুইটা শার্ট দিয়ে আর কতদিন চলবে ?
আরে ! আমার ছোট বোনটা দেখি বড়
হয়ে গেছে ! বড়
ভাইকে নিয়ে ভাবতে শিখেছে !
আবির তার ছোট বোনটার মাথায় হাত
রাখল , অনেক চেষ্টা করেও চোঁখের জল
আটকাতে পারলোনা । কিন্তু এখন তার
কাঁন্নার সময় না , তাকে যেতেই হবে ।
আজকের টিউশনিটা কোনভাবেই মিস
করা যাবেনা । এই ঝড় বৃষ্টি মাথায়
নিয়ে আবির বেরিয়ে পড়ল জীবন যুদ্ধে . .
আবির এখন জানে কাঁন্না দিয়ে , আবেগ
দিয়ে , পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করে জীবন
চলেনা । সময়ের স্রোতে জীবন থেকে অনেক
প্রিয়মুখই হারিয়ে যায় , তারপরও
জীবনে টিকে থাকতে হবে । আর
টিকে থাকতে হলে ছুটতে হবে , সে যতই
প্রতিকূল পরিস্থিতি হোক ।
বসে বসে বৃষ্টি দেখছে আবির । তৃনার
কথা খুব মনে পড়ছে আজ , এমনি কোন এক
বৃষ্টির দিনে তৃনার সাথে দেখা হয়েছিল
আবিরের . .
নতুন কলেজ , নতুন নতুন মুখ , মনে নতুন
বাতাস , ভালোই দিন কাঁটছে আবিরের ।
সেদিন কলেজ থেকে ফেরার পথে শুরু হল
প্রচন্ড বৃষ্টি , যে যার মত ছুটছে ।
আবির বই খাতা শার্টের ভেতর
ঢুকিয়ে দৌড়াতে শুরু করল , ওদের
বাসা কলেজের কাছাকাছিই ছিল ।
কিছুদুর যাওয়ার পর খেয়াল করল কলেজের
ড্রেস পরা একটা মেয়ে রাস্তায় পড়ে আছে ,
আর ব্যাথায় কাতরাচ্ছে । আশেপাশে কিছু
উত্সুক জনতা দাঁত বের হাসছে ।
আবির মেয়েটাকে তোলার চেষ্টা করল
কিন্তু পারলনা পায়ে খুব
ব্যাথা পেয়েছে মনে হয় ।
চারদিকে তাকিয়ে রিকশা খুঁজছিল আবির ,
কোথাও কোন রিকশা নেই । বাধ্য
হয়ে মেয়েটাকে কোলে তুলে নিল আবির ,
মেয়েটি কোন বাধা দিলনা । আশেপাশের
লোকগুলোর হাসি যেন আরো বেড়ে গেল ।
মেয়েটিকে বাসায় নিয়ে আসার পর আবির
তার মাকে সব খুলে বলল । একটু পর আবির
একজন ডাক্তার নিয়ে আসল । খুব বড় কোন
সমস্যা হয়নি , বাম পা একটু
মচকে গিয়েছে । মেয়েটির নাম
ঠিকানা জেনে নিয়ে আবির বিকেলের
দিকে তাকে বাসায় পৌছে দেয় ।
নাম তৃনা , মানবিকে পড়ে , সেও নতুন
ভর্তি হয়েছে ।
তারপর থেকেই শুরু আবির আর তৃনার
একসাথে পথ চলা । নিয়মিত ক্লাস করা ,
বাবার সাথে লাইব্রেরীতে সময় দেয়া , আর
মাঝেমাঝে তৃনাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া ,
এভাবেই চলছিল আবিরের
সোনালী দিনগুলি । কিন্তু সুখের
সময়টা বড্ড তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়
আবিরের , এক বৈশাখী ঝড় তার সব কিছু
লন্ডভন্ড করে দেয় ।
আবিরের বাবার ক্যান্সার ধরা পড়ে ।
বাবার
সিকিত্সা করাতে গিয়ে আবিররা সহায়
সম্পদ সব বিক্রি করে দেয় , শেষ পর্যন্ত
লাইব্রেরীটাও বিক্রি করতে বাধ্য হয় ।
এত প্রতিকুলতার পরও আবির
HSCতে ভালো ফলাফল করে , কিন্তু তার
বাবাকে নিয়ে সব সময় দৌড়াদৌড়ির
মাঝে থাকায় ভার্সিটির জন্য
প্রস্তুতি নিতে পারেনি । তাই বাধ্য
হয়েই সেই কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়ে গেল
। আর তৃনাও যেহেতু আবিরকে চাড়া কোথাও
যাবেনা তাই সেও সেখানে ভর্তি হয়ে গেল ।
আবির তৃনাকে অনেক বুঝিয়েছিল
ভার্সিটিতে ট্রাই করতে , কিন্তু
তৃনা কিছুতেই রাজী হয়নি ।
অনার্সে ভর্তির কিছুদিন পরই তৃনার
বাবা ওর বিয়ে ঠিক করে ফেলে ।
ছেলে আমেরিকা থাকে এটাই সবচেয়ে বড়
যোগ্যতা ! তাই তৃনার
বাবা দেরী করতে রাজী নন ।
তাচাড়া ততদিনে আবিরের ব্যাপারেও
জেনে গেছেন তিনি ।
আবির
জানতো সে তৃনাকে ধরে রাখতে পারবেনা ,
তার সেই যোগ্যতা নেই । বিয়ের দুদিন
আগে তৃনা এসেছিল আবিরদের বাসায় বিদায়
নিতে । দু জন প্রচন্ড কেঁদেছিল সেদিন ,
ওদের কাঁন্না দেখে আবিরের মাও কাপড়ে মুখ
লুকিয়ে কেঁদেছিল । কিন্তু নিয়তি বড়ই
নির্মম , তার কাছে কাঁন্নার কোন মূল্য
নেই . .
ভাইয়্যা ৫টা বাঁজে , টিউশনির সময়
হয়ে গেছেতো !
ছোট বোন টুম্পার
ডাকে বাস্তবে ফিরে আসে আবির ,
টিউশনির কথা ভুলেই গিয়েছিল । কিন্তু
না , আজ টিউশনিতে না গেলে চলবে না ।
আজ বেতন পাবার কথা , যত ঝড় বৃষ্টিই
হোক আজ যেতেই হবে ।
সামনে আবিরের অনার্স ফাইনাল , পড়ার
অনেক চাপ । তারপরও
সে তিনটা টিউশনি করে ।
দু বছর আগে আবিরের বাবা মারা যায় ,
অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো যায়নি ।
কিন্তু এই সংসারটাকে বাঁচাতে হবে , তার
মায়ের মুখে , ছোট বোনের
মুখে হাসি ফোঁটাতে হবে ।
ওর ছোট বোনটার একটাই স্কুল ড্রেস , গত
ছয়মাস ধরে ওটা পরেই সে স্কুল যাচ্ছে ।
কিন্তু কাউকে কিচ্ছু বলছেনা , আবির ঠিক
করেছে বেতন পেলেই টুম্পাকে একটা স্কুল
ড্রেস বানিয়ে দেবে । আর সাথে মায়ের জন্য
একটা শাড়ি ।
টুম্পা . .
জ্বী ভাইয়্যা . .
একটু শুনে যা . .
বল . .
চিন্তা করিস না , কালকেই তোকে নতুন
ড্রেস বানিয়ে দেব . .
আমার জন্য ড্রেস কিনতে হবেনা , তোমার
জন্য ড্রেস কিন আগে । একটা পেন্ট আর
দুইটা শার্ট দিয়ে আর কতদিন চলবে ?
আরে ! আমার ছোট বোনটা দেখি বড়
হয়ে গেছে ! বড়
ভাইকে নিয়ে ভাবতে শিখেছে !
আবির তার ছোট বোনটার মাথায় হাত
রাখল , অনেক চেষ্টা করেও চোঁখের জল
আটকাতে পারলোনা । কিন্তু এখন তার
কাঁন্নার সময় না , তাকে যেতেই হবে ।
আজকের টিউশনিটা কোনভাবেই মিস
করা যাবেনা । এই ঝড় বৃষ্টি মাথায়
নিয়ে আবির বেরিয়ে পড়ল জীবন যুদ্ধে . .
আবির এখন জানে কাঁন্না দিয়ে , আবেগ
দিয়ে , পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করে জীবন
চলেনা । সময়ের স্রোতে জীবন থেকে অনেক
প্রিয়মুখই হারিয়ে যায় , তারপরও
জীবনে টিকে থাকতে হবে । আর
টিকে থাকতে হলে ছুটতে হবে , সে যতই
প্রতিকূল পরিস্থিতি হোক ।

No comments:
Post a Comment
thank you...