হযরত ইবনে ওমর(রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “যে মুসলমানের অছিয়ত করার মতো কিছু থাকে, তার অছিয়তনামা লিখে না রেখে দুই রাত্রি যাপন করা উচিত নয়। (বোখারী, মুসলিম) । তাই প্রত্যেক মু’মিনের অছিহত লিখে রাখা উচিত। উম্মতে মুহাম্মদী হতে এ আমলটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উপরে উল্লেখিত হাদিছ শরীফ হতে এর গুরত্ব প্রকাশ পেয়েছে। তাই আমিও তোমাদের সুবিধার্থে এবং আমার নিজের প্রয়োজনার্থে তোমাদের কাছে কিছু নির্দেশ/অনুরোধ জানিয়ে গেলাম। আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে এর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন!
মৃত্য পরবর্তী প্রয়োজনীয় সামগ্রীঃ কাফনের কাপড়, আতর, সুরমা, সাবান, গামছা, খাটের উপর দেবার জন্য ১টি গিলাপ আমার আলমিরায় আছে। তবে গোলাপজল কর্পূর ও আগরবাতি কিনতে হবে। লাশ ধৌত করাঃ আমার রূহানী ভাই তরিক্বতপন্থীদের মাধ্যমে আমাকে ধৌত করাবে। মৃত্যুর খবর পৌঁছানোঃ প্রথমে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে খবরখানি পৌঁছাবে। এরপর শাখার তরিক্বতপন্থীগণের নিকট এবং এরপর আত্নীয়-স্বজনের কাছে ও আমার ব্যবসায়ী বন্ধুগনের নিকট ফোনে খবর পৌঁছে দিবে। এ ব্যাপারে আমার ড্রয়ারে রাখা ফোন ইনডেক্স ডায়েরী হতে নম্বর সংগ্রহ করতে পারো। খতমে তাহলিল, খতমে কোরআন এর ব্যবস্থা করাঃ আলহামদুলিল্লাহ্! খতমে তাহলীল আমি ইতোমধ্যে শেষ করেছি। এরপরও তোমাদের যদি ইচ্ছা হয় খতমে তাহলীল আদায় করাতে পার। খতমে কোরআন আমার তরিক্বতপন্থী আলেম ও হাফেজ ভাইদের মাধ্যমে আদায় করাবে। আমার নিজের ঘরে বা এলাকার মসজিদে বা আমাদের পার্শ্ববর্তী মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ ১নং শাখা কার্যালয়েও আদায় করাতে পার। আমার গোসল দেবার পর হতে জানাজার জন্য লাশ ঘর হতে বের করার আগ পর্যন্ত আমার দু’পাশে কোরআন শরীফ তেলাওয়াতের ব্যবস্থা করাবে। জানাযার নামাজের ইমামঃ কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ হতে মাননীয় মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেবের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি যাকে পড়ানোর এজাজত দেন তাঁকে দিয়েই জানাযার নামাজ পড়াবে। তবে এক্ষেত্রে মহল্লার মসজিদের ইমাম হতে এযাজত নিবে। জানাযার নামাজ ও দাফনের সময়ঃ * মৃত্যু যদি সকালে হয়, তবে বাদে জোহর বা বাদে আসর জানাযা হবে। * মৃত্যু যদি দুপুরে হয়, তবে বাদে মাগরিব বা বাদে এশাজানাযা হবে। * মৃত্যু যদি বিকেলে হয়, তাহলে রাত দশটার মধ্যে জানাযা হবে। পুরো রাত রেখে দিবে না। * মৃত্যু যদি রাতে হয়, তাহলে সকাল ১১ টার মধ্যে জানাযা হবে। * মৃত্যু যদি ভোররাতে হয়, তাহলে বাদে জোহর জানাযা হবে। মনে রাখবে, দূর থেকে বা বিদেশ হতে কেউ আসার জন্য ফ্রিজে রেখে দিয়ে কারো জন্যে অপেক্ষা করবে না এবং জানাযার নামাজের পর কাফন সরিয়ে আমার মুখ কাউকে দেখাবে না। আল্লাহ্ না করুন! আমার মৃত্যু যদি ডাক্তার এবং চিকিৎসা ভুলে বা সড়ক দুর্ঘটনার মতো আকস্মিক মৃত্যু হয়, তাহলে কাউকে দায়ী করে মামলা করবে না এবং অবশ্যই পোস্টমর্টেম হতে আমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করবে। #চলবে

No comments:
Post a Comment
thank you...