Tuesday, January 30, 2018

"মৃত্যুশায়ী পিতার নছিহত"


স্নেহের সন্তানেরা,

আমার অন্তরের দোয়া তোমাদের সবার কাছে। বয়সের অনেক পথ পেরিয়ে আজ জীবন –মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছি। আল্লাহ্‌ই জানেন কখন এ ধরা হতে বিদায় নিব। তোমাদের ছেড়ে চলে যাবার আগে অনেক কিছু বলার ছিল। সময় পেলে বলব। তবে আজ অতি প্রয়োজনীয় কিছু দিক-নির্দেশনা বিশেষ করে আমার মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে যা তোমারা সঠিক কর্তব্যের সাথে আদায় করার চেষ্টা করবে, প্রথমে জানিয়ে রাখি, তোমাদের মাও অতিশয় বৃদ্বা অবস্থায় আছে। আমার বিদায়ের পরমুহূর্ত হতে তোমার মা বিধবা হবেন। তোমাদের কোন বাসনা যেমন আমি কখনো অপূর্ণ রাখিনি, তেমনি তোমাদের মা’র সকল ইচ্ছাগুলোও তোমারা সর্বোচ্চাকারে পূরণ করার চেষ্টা করবে। তোমাদের মা’র মনে এ ধারনা যাতে না জন্মায় যে, আজ আমার স্বামী নেই বলে ছেলেমেয়েরা আমাকে অবহেলা করছে। আমার বিশ্বাস তোমাদের উপর অফুরন্ত, এরপরও সজাগ থাকার জন্য বলা হলো। সে-ই যুবক জীবন হতে বিরতিহীন চেষ্টা-সাধনা, দৌড়-ঝাপ, দিন-রাতের পরিশ্রম সবকিছুই করেছি সার্বিক জীবনের জন্য। এই ছোট জীবনটাতে অনেক পেয়েছি-অর্থ, সম্মান ও খ্যাতি। মোটকথা, সুখশান্তির অঢেল সম্রাজ্যের অধিকারী না হলেও আল্লাহর রহমতে মোটামুটিভাবে অন্য দশজনের চেয়ে ভাল অবস্থানে সবসময় ছিলাম। তোমাদের দুই ভাইয়ের উচ্চতর শিক্ষা অর্জনে আমার জীবনের আয়ের অনেকগুলো টাকা খরচ হলেও বৃথা যায়নি। আজ তোমারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। ভাল বেতনের চাকুরি করছ। হক্বভাবে জীবন পরিচালনায় সর্বোতভাবে চেষ্টা করবে। ঘরে আমার দুই বউমাও খুব ভাল ও পরহেজগার। আমার ছোট মা-মণি জান্নাতুল মাওয়া আজ কত বড় হয়েছে- স্বামীর ঘরে যাওয়ার পর কিছুদিন তাকে তার মায়ের জন্য চিন্তিত দেখালেও এখন সে শ্বশুরবাড়িতে বেশ মানিয়ে নিয়েছে। আমার মেয়ের জামাইটাও মাশাআল্লাহ বেশ ধার্মিক এবং সামাজিক। অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি। শ্বশুর-শ্বাশুড়িও তাকে বেশ আদরের মধ্যে রেখেছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌! মহান মোর্শেদ গাউছুল আজমের উছিলায় আল্লাহ আমাকে কোনদিকেই অপূর্ণতার মাঝে রাখেননি। তবে একটি বিষয়ে আমার সবসময় অস্থিরতায় কাটে, আর সেটি হচ্ছে কাগতিয়ার মহান মোর্শেদ গাউছুল আজমের তরিক্বতের নেয়ামত পেয়েছি, তবে বৃদ্বাবস্থায়। আমার জন্ম ১৯৪৮ সনে। ১৭ বছর বয়সে ১৯৬৫ সনে মেট্রিকুলেশন পাস করার পর ঐ বছরই চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হই ইন্টারমিডিয়েট ১ম বর্ষে। তোমাদের মত এইচ.এস.সি ১ম বর্ষে ভর্তির সাথে সাথে যদি গাউছুল আজমের মকবুল এ তরিক্বতের সন্ধান পেতাম তাহলে আজ আমার তরিক্বতের বয়স হত ৫০ বছর। তার মানে আমার নিয়মিত আদায়কৃত মোট দরূদ শরীফের পরিমাণ দাঁড়াত প্রয় ২,০২,৭৫,৭৫০ (দই কোটি দুই লক্ষ পঁচাত্তর হাজার সাতশত পঞ্চাশ) বার (৫০ বছর+৩৬৫ দিন +১১১১বার) আমার অজিফার বয়স এখন ১৩ বছর। আমার জানামতে এই ১৩ বছরে এক ওয়াক্ত নামাজও ক্বাজা হয়নি। এক ওয়াক্ত অজিফা শরীফও ক্বাজা করিনি। যদিও আমার বয়স এখন ৬৭ বছর, তারপরও আমার মনে হয় আমার বয়স এখন ১৩ বছর। কেননা তরিক্বত জীবন আরম্ভ হবার পর হতেই আমি পরিপূর্ণ ইসলামি জীবনে প্রবেশ করেছি, যে জীবন মহান আল্লাহর নির্দেশিত এবং প্রিয় রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মনোনিত। হে আল্লাহ! আমার তরিক্বতপূর্ব জীবনের এলোমেলো-অনিয়ন্ত্রিত সময়গুলোর কাফফারা আদায়ের এবং ক্ষমা চাওয়ার সুযোগটুকু দাও। হে মাবুদ! মেহেরবানী কর, মাফ কর। যুগে যুগে শুনে এসেছি পিতার আদর্শে সন্তান আদর্শিত হয়। হে আল্লাহ! তুমি আজ কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজমের দরবার শরীফের সুন্নাতি জীবনের সংস্পর্শে আমার দুই সন্তানকে কবুল করেছ; তাদের মাধ্যমেই আমারও সৌভাগ্য হলো গাউছুল আজমের ছোহবতে যাবার। সন্তানের নেক আমলের ফল্গুধারা দেখে আজ এক পিতারও আশ্রয় হয়েছে এই তরিক্বতের সামিয়ানা তলে। হে আল্লাহ! ঐ সমস্ত বৃদ্ব; যারা এখনো পর্যন্ত সঠিকপথের সন্ধান না পেয়ে দিক-বিদিক ঘুরছে, এদেরকে এই মহান তরিক্বতের সুবাসিত নূরের হাওয়া তাদের অন্তরে প্রবেশ করাও। আমীন! যাক, কথায় কথায় অনেক দূর চলে এলাম। মূল বিষয়ে চলে আসি। #চলবে

লেখা সংগ্রহীতঃ ফজলে আহমদী ৫৫তম সংখ্যা, লেখকঃ মুহাম্মদ আবদুল হামিদ।
বর্ণবিন্যাসঃ এস.এইচ রুবেল, শান্তির হাট, রাঙ্গুনিয়া।

No comments:

Post a Comment

thank you...