Sunday, April 12, 2020

আকাশ আর টুনটুনির কথোপকথন"(১)

টুনটুনিঃ- শোন , একটা খুব সিরিয়াস কথা আছে!
.
আকাশঃ- তুমি প্লিজ কোন কথার আগে "সিরিয়াস"
শব্দটা লাগিয়ো না!
.
টুনটুনিঃ- কেনো , কেনো?
.
আকাশঃ- তুমি সিরিয়াস হলে আমার ব্লাড প্রেসার
লো হয়ে যায়!
.
টুনটুনিঃ- ফাযলামো আমার পছন্দ না। সিরিয়াস কথায় আসি!
.
আকাশঃ- হুম!
.
টুনটুনিঃ- আমার মনে হচ্ছে তুমি খুব টেনশনে আছ!
.
আকাশঃ- কিভাবে বুঝলে?
.
টুনটুনিঃ- আমি হচ্ছি বাড়ির বড় মেয়ে। বাড়ির বড়
মেয়ে হয়ে নিজ বয়ফ্রেন্ডের টেনশন বুঝতে না
পারলে লোকে কি ভাববে?
.
আকাশঃ- সেটাই!
.
টুনটুনিঃ- শোন , বিয়ের পর আমি তোমার সংসার দেখাশোনা করতে পারব কিনা তা নিয়ে তোমাকে মোটেও চিন্তা করতে হবে না!
.
আকাশঃ- সত্যি?
.
টুনটুনিঃ- হ্যা, আমি হচ্ছি বাড়ির বড় মেয়ে।
বাড়ির বড় মেয়ের প্রথম ফরয কাজ হচ্ছে বরকে টেনশন মুক্ত রাখা!
.
আকাশঃ- তোমার কথা শুনে আমার ভেতর থেকে
কেমন শান্তি শান্তি লাগছে!
.
টুনটুনিঃ- আরো ভালো লাগবে। আগে পুরোটা শেষ
করি?
.
আকাশঃ- হুম!
.
টুনটুনিঃ- তুমি কি ভেবছ আমি তোমার বউ হলে তোমার সংসার এবং তোমাকে দেখাশোনা করতে
পারব না?
.
আকাশঃ- হ্যা!
.
টুনটুনিঃ- আজ থেকে এসব মোটেও ভাববে না। তুমি
এখন একটা কাগজ নাও । আমি যা বলব তা বিয়ের
আগে এনে ঘরে রাখবে। আর কিছু লাগবে না!
.
আকাশঃ- কাগজ নিলাম , বলো?
.
টুনটুনিঃ- তুমি ভেবনা যে আমি তোমাকে বাজে
রান্না খাইয়ে তোমার সাস্থ্য খারাপ করব। প্রথম
কাজ , বিয়ের পর একটা ভাল শেইফ রাখা। আমি
চাই না না খেযে তোমার শরীর খারাপ হোক!
.
আকাশঃ- এএএ?
.
টুনটুনিঃ- আরে শুনো না , আরো আছে। তুমি ভেব না
যে তোমাকে আমি অফিসে ময়লা কাপড়
পড়িয়ে পাঠাব। তাই আমি আসার আগে একটা
ওয়াশিং মেশিন এনে রাখবে!
.
আকাশঃ- তারপর?
.
টুনটুনিঃ- ধরো শীতের সকালে আমার ঘুম ভাঙ্গল
না। তুমি ঠান্ডা খাবার খেয়ে যাবে নাকি? একটা
ওভেন আনিয়ে রাখবে। কেমন?
 ঘরে তো অনেক কাজ । সব তো আমাকেই
করতে হবে। তাই আমাদের যখন বাবু হবে তখন
তাদের দেখাশোনার জন্য কাউকে তো লাগবে।
বাবুর দেখাশোনা করতে গিয়ে তোমার খেয়াল
না রাখতে পারলে লোকে তো কথা শোনাবে!
.
আকাশঃ- হুম!
.
টুনটুনিঃ- আমি হচ্ছি বাড়ির বড় মেয়ে। খাটতে
খাটতে শুকিয়ে গেলে লোকে তোমাকে মন্দ
ভাববে না?
বলবে বাড়ির বউটাকে খাটিয়ে খাটিয়ে
মেরে ফেলছে। তাই ভেবেছি...!!
.
আকাশঃ- কি ভাবছ?
.
টুনটুনিঃ- তোমার অফ ডেতে আমি সারাদিন ঘুমাব। বাড়ির কাজের ফাকে শরীরের তো যত্ন দরকার।
তাই না?
.
আকাশঃ- হুম
.
টুনটুনিঃ- আরেকটা কথা । তুমি একটা কাজের
মহিলা রেখ ।
ঘর মোছা আর থালা বাসন ধৌয়ার জন্য।
ঐসব করলে তো আমার কোমড় ব্যাথা করবে। তখন দেখা যাবে আমি আর অন্য কাজ করতে পারছি না!
.
আকাশঃ- আর কিছু?
.
টুনটুনিঃ- আর আর ও হ্যা মনে পড়েছে। কয়েক প্রকার
ব্লেন্ডার কিনে রেখো। তাতে কাজ দ্রুত হয়!
.
আকাশঃ- হুম!
.
টুনটুনিঃ- তুমি একদম টেনশন করবে না। আমি হচ্ছি
বাড়ির বড় মেয়ে। বাড়ির বড় মেয়েরা আর্দশ বউ
হয়। আমি সব কাজ করব!
.
আকাশঃ- জ্বি তা তো বুঝতেই পারছি!
.
টুনটুনিঃ- আমি হচ্ছি বাড়ির বড় মেয়ে। বাড়ির বড়
মেয়ের প্রেমিক টেনশনে থাকলে লোকে কি
ভাববে? আমি বলেছিলাম সব শুনলে তোমার আর টেনশন থাকবে না। আর এখন হালকা হালকা লাগছে না?
.
আকাশঃ- হ্যা একদম হালকা লাগছে। টেনশন গুলো
সব কানের দুপাশে প্রেশার কুকারের মতো
সিটি মেরে ধৌয়া হয়ে বেড় হয়ে গেছে। তুমি থাকতে
আমার কিসের টেনশন!

|_________________সমাপ্ত

*আমার এই ছোট গল্পটি" "প্রিয় পিংকীকে "উৎসর্গ" করলাম"*

পুনশ্চঃ সৌন্দর্য কাকে বলে,
এর সংজ্ঞা বহুজন বহুভাবে দিয়েছেন,
আমার কাছে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বড্ড সহজ,
সৌন্দর্য মানেই তুই, জানুক সকলে!
হ্যাঁ, আমি গলা ফাটিয়ে বলি আজ,
বজ্রপাতের মতন উচ্চ স্বরে,
তুইই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে,
আমার এ বলাতে নেই কোনও লাজ!
সুন্দর নেয় শ্বাস তোর অন্তরে,
তুই ছাড়া সৌন্দর্য বাঁচে কি করে?

___কলমে- ফেরারী রুবেল...
10.04.2020,10;53pm

No comments:

Post a Comment

thank you...