Sunday, April 12, 2020

আকাশ আর টুনটুনির কথোপকথন"(১)

টুনটুনিঃ- শোন , একটা খুব সিরিয়াস কথা আছে!
.
আকাশঃ- তুমি প্লিজ কোন কথার আগে "সিরিয়াস"
শব্দটা লাগিয়ো না!
.
টুনটুনিঃ- কেনো , কেনো?
.
আকাশঃ- তুমি সিরিয়াস হলে আমার ব্লাড প্রেসার
লো হয়ে যায়!
.
টুনটুনিঃ- ফাযলামো আমার পছন্দ না। সিরিয়াস কথায় আসি!
.
আকাশঃ- হুম!
.
টুনটুনিঃ- আমার মনে হচ্ছে তুমি খুব টেনশনে আছ!
.
আকাশঃ- কিভাবে বুঝলে?
.
টুনটুনিঃ- আমি হচ্ছি বাড়ির বড় মেয়ে। বাড়ির বড়
মেয়ে হয়ে নিজ বয়ফ্রেন্ডের টেনশন বুঝতে না
পারলে লোকে কি ভাববে?
.
আকাশঃ- সেটাই!
.
টুনটুনিঃ- শোন , বিয়ের পর আমি তোমার সংসার দেখাশোনা করতে পারব কিনা তা নিয়ে তোমাকে মোটেও চিন্তা করতে হবে না!
.
আকাশঃ- সত্যি?
.
টুনটুনিঃ- হ্যা, আমি হচ্ছি বাড়ির বড় মেয়ে।
বাড়ির বড় মেয়ের প্রথম ফরয কাজ হচ্ছে বরকে টেনশন মুক্ত রাখা!
.
আকাশঃ- তোমার কথা শুনে আমার ভেতর থেকে
কেমন শান্তি শান্তি লাগছে!
.
টুনটুনিঃ- আরো ভালো লাগবে। আগে পুরোটা শেষ
করি?
.
আকাশঃ- হুম!
.
টুনটুনিঃ- তুমি কি ভেবছ আমি তোমার বউ হলে তোমার সংসার এবং তোমাকে দেখাশোনা করতে
পারব না?
.
আকাশঃ- হ্যা!
.
টুনটুনিঃ- আজ থেকে এসব মোটেও ভাববে না। তুমি
এখন একটা কাগজ নাও । আমি যা বলব তা বিয়ের
আগে এনে ঘরে রাখবে। আর কিছু লাগবে না!
.
আকাশঃ- কাগজ নিলাম , বলো?
.
টুনটুনিঃ- তুমি ভেবনা যে আমি তোমাকে বাজে
রান্না খাইয়ে তোমার সাস্থ্য খারাপ করব। প্রথম
কাজ , বিয়ের পর একটা ভাল শেইফ রাখা। আমি
চাই না না খেযে তোমার শরীর খারাপ হোক!
.
আকাশঃ- এএএ?
.
টুনটুনিঃ- আরে শুনো না , আরো আছে। তুমি ভেব না
যে তোমাকে আমি অফিসে ময়লা কাপড়
পড়িয়ে পাঠাব। তাই আমি আসার আগে একটা
ওয়াশিং মেশিন এনে রাখবে!
.
আকাশঃ- তারপর?
.
টুনটুনিঃ- ধরো শীতের সকালে আমার ঘুম ভাঙ্গল
না। তুমি ঠান্ডা খাবার খেয়ে যাবে নাকি? একটা
ওভেন আনিয়ে রাখবে। কেমন?
 ঘরে তো অনেক কাজ । সব তো আমাকেই
করতে হবে। তাই আমাদের যখন বাবু হবে তখন
তাদের দেখাশোনার জন্য কাউকে তো লাগবে।
বাবুর দেখাশোনা করতে গিয়ে তোমার খেয়াল
না রাখতে পারলে লোকে তো কথা শোনাবে!
.
আকাশঃ- হুম!
.
টুনটুনিঃ- আমি হচ্ছি বাড়ির বড় মেয়ে। খাটতে
খাটতে শুকিয়ে গেলে লোকে তোমাকে মন্দ
ভাববে না?
বলবে বাড়ির বউটাকে খাটিয়ে খাটিয়ে
মেরে ফেলছে। তাই ভেবেছি...!!
.
আকাশঃ- কি ভাবছ?
.
টুনটুনিঃ- তোমার অফ ডেতে আমি সারাদিন ঘুমাব। বাড়ির কাজের ফাকে শরীরের তো যত্ন দরকার।
তাই না?
.
আকাশঃ- হুম
.
টুনটুনিঃ- আরেকটা কথা । তুমি একটা কাজের
মহিলা রেখ ।
ঘর মোছা আর থালা বাসন ধৌয়ার জন্য।
ঐসব করলে তো আমার কোমড় ব্যাথা করবে। তখন দেখা যাবে আমি আর অন্য কাজ করতে পারছি না!
.
আকাশঃ- আর কিছু?
.
টুনটুনিঃ- আর আর ও হ্যা মনে পড়েছে। কয়েক প্রকার
ব্লেন্ডার কিনে রেখো। তাতে কাজ দ্রুত হয়!
.
আকাশঃ- হুম!
.
টুনটুনিঃ- তুমি একদম টেনশন করবে না। আমি হচ্ছি
বাড়ির বড় মেয়ে। বাড়ির বড় মেয়েরা আর্দশ বউ
হয়। আমি সব কাজ করব!
.
আকাশঃ- জ্বি তা তো বুঝতেই পারছি!
.
টুনটুনিঃ- আমি হচ্ছি বাড়ির বড় মেয়ে। বাড়ির বড়
মেয়ের প্রেমিক টেনশনে থাকলে লোকে কি
ভাববে? আমি বলেছিলাম সব শুনলে তোমার আর টেনশন থাকবে না। আর এখন হালকা হালকা লাগছে না?
.
আকাশঃ- হ্যা একদম হালকা লাগছে। টেনশন গুলো
সব কানের দুপাশে প্রেশার কুকারের মতো
সিটি মেরে ধৌয়া হয়ে বেড় হয়ে গেছে। তুমি থাকতে
আমার কিসের টেনশন!

|_________________সমাপ্ত

*আমার এই ছোট গল্পটি" "প্রিয় পিংকীকে "উৎসর্গ" করলাম"*

পুনশ্চঃ সৌন্দর্য কাকে বলে,
এর সংজ্ঞা বহুজন বহুভাবে দিয়েছেন,
আমার কাছে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বড্ড সহজ,
সৌন্দর্য মানেই তুই, জানুক সকলে!
হ্যাঁ, আমি গলা ফাটিয়ে বলি আজ,
বজ্রপাতের মতন উচ্চ স্বরে,
তুইই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে,
আমার এ বলাতে নেই কোনও লাজ!
সুন্দর নেয় শ্বাস তোর অন্তরে,
তুই ছাড়া সৌন্দর্য বাঁচে কি করে?

___কলমে- ফেরারী রুবেল...
10.04.2020,10;53pm

“এক কাপ চায়ে তারা দুজন”

বিছানার চাদর শরীরে জড়ানো অবস্থায় ঘুমঘুম চোখে পিংকী বললো,

পিংকীঃ- এই আকাশ--?
আকাশঃ- [আকাশের আবেশিত স্বর] হুম বলো!
পিংকীঃ- ক'টা বাজে?
আকাশঃ- [মৃদু হেসে] এইতো ছ'টা...
পিংকীঃ- তবে আমি উঠে চা দিচ্ছি--
আকাশঃ- হুম দাও...

পিংকী চোঁখ খুলতেই বিছানার পাশে রাখা মোবাইলে ইমো ভিডিও কলে আকাশের মুখটা দেখেই অবাক হয়ে গেলো! তারমানে ও এতক্ষণ পূর্বেই কানেক্ট করে রাখা ভিডিও কলের মাধ্যমে সব দেখে শোনে কথা বলছিলো! পিংকী অবাক হয়ে কপালকুঞ্চিত করে দ্রুত জিজ্ঞেস করলোঃ

পিংকীঃ- এই তুমি কই?
আকাশঃ- কর্মস্থলে (অফিসে), আবার কোথায় থাকব?
পিংকীঃ- এত সকালে-!?
বলেই পিংকী ঘড়ির দিকে তাকিয়ে 9:30 দেখে! তারমানে আকাশ ওকে মিথ্যে বলেছে যে ৬ টা বাজে আবার ওকে ডাক না দিয়ে এভাবে অফিসেও চলে গেছে, তাই ওর উপর ভিষণ রাগ করে কলটা কেটে দেয়! অতঃপর খাট থেকে নেমে সামনে পা বাড়াতেই চিরকুট--
"জানতামতো কলটা কেটে দেবে, যাও দাঁত ব্রাশ করে নাও। পাশের টেবিলে ব্রাশ পেষ্ট রাখা আছে"
ব্রাশটা হাতে নিয়ে মুচকি হাসে পিংকী, কিন্তু পেষ্ট হাতে নিতেই ওটার নিচের চিরকুটটা চোখে পড়ে--
"হেসো না, ফ্রেশ হয়ে অাস আগে"
বাথরুমের দরজায় লাগানো চিরকুট--
"হিটারে পানি গরম করা আছে"
পিংকী হেসে বাথরুমে ঢুকতেই মিষ্টি পারফিউমের গন্ধ পাই! মনে মনে বলে "পাগলটা কখন কি-যে করে", শেষে ফ্রেশ হয়ে তোয়ালে হাতে নিতেই আবার চিরকুট--
"আমার পছন্দের শাড়িটা আইরন টেবিলে ভাঁজ করা আছে, প্লীজ ওটা পরে নাও"
শাড়িটা পরে বেরিয়ে ড্রেসিং টেবিলে আসতেই, ওখানে লাগানো চিরকুটে দেখতে পায়--
"এই চুলটাতো ভাল করে মুছে নাও"
চুল মুছে ভেজা টাওয়াল স্ট্যান্ডে রাখতে গিয়ে--
"এই টিপ পড়তে ভুলে গেছ কিন্তু"
পিংকী দৌড়ে এসে টিপ পড়তে গেলে, লাল টিপের পাতার নিচে--
"বেলকনিতে একবার যাও নাগো প্লীজ"
ওখানে যেতেই টি-টেবিলে পিংকীর পছন্দের আদা- চায়ের সমস্ত ব্যবস্থা সাথে চিরকুট--
"ঠান্ডা হয়ে যাবে বলে চা বানালাম না। দু, চামচ চিনি দিয়ে চা টা বানিয়ে নাও"
চা বানিয়ে প্রিচসহ কাপ তুলতেই--
"একাই চা খাবে, আমাকে ডাকবে না? আমি কিন্তু চা খেয়ে অফিসে আসিনি"
..
..
পিংকী ফোনটা হাতে নিয়ে আকাশকে কল করতেই দরজাতে কলিং বেল বেজে উঠে। ও ছুটে দরজা খুলতেই, আকাশ গোলাপ বাড়িয়ে দিয়ে বলেঃ

আকাশঃ-  লাভ ইউ পাগলি....
পিংকী কিছু বলতে পারে না শুধু শক্ত করে আকাশকে জড়িয়ে ধরে! এমন সময় আকাশ আবার বলে,

আকাশঃ-  এই চা কিন্তু ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে আর আমি মিথ্যে বলে অফিস থেকে বেড়িয়ে এসেছি তাই বেশি সময় দিতে পারবো না!!
পিংকী আকাশকে এক হাতে পেচিয়ে বারান্দার দিকে হাঁটতে হাঁটতে,

পিংকীঃ- তুমি এমন কেন?
আকাশঃ- আমার এই পাগলিটার জন্য--
পিংকীঃ- আমায় ঘুম থেকে তুললে না কেন?
আকাশঃ-  তুললে কি পাগলিটা আমায় এমন করে জড়িয়ে ধরতো?
পিংকীঃ- কিহ্--?

"হাসতে হাসতে ওরা চায়ের কাপে চুমুক দেয়"


পুনশ্চঃ
 *প্রিয় পিংকী, আমি চাই তোর জীবনে আকাশ নামের সেই ছেলেটি আসুক, এমনি করে কেউ ভালোবাসুক...*



কলমে-ফেরারী রুবেল...
11.04.2020,10;13pm

Saturday, January 19, 2019

শানে দরবারে কাগতিয়া ভলিউম ৫২


শানে দরবারে কাগতিয়া" ঐতিহাসিক গাউছুল আজম কনফারেন্স'২০১৯ সংখ্যা ভলিউম ৫২" যারা এখনো পান নাই এই লিংকে গিয়ে ডাউনলোড করে নিন এখানে ক্লিক করে ডাউনলোড করুন
বিঃদ্রঃ অবশ্যই প্রকাশনা পরিষদে ৩০ টাকা নিজ দ্বায়িত্বে জমা দিবেন, অন্যথায় দাবি থাকবি...

Wednesday, October 10, 2018

যারা গালিতে একদম অজ্ঞ, তারা এই বইটি পড়তে পারেন! "গালি অভিধান"

"গালি অভিধান" নাম দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম এটা হয়তো উপন্যাস হবে! নামকরণটাকে চটকদারি বিজ্ঞাপন ঠাওরেছিলাম কিন্তু আমার ভাবনায় ভুল ছিল। এটা আসলেই গালি অভিধান ! গালি মানে- গালি। 
আমরা পথে-ঘাটে যেসব গালাগালি শুনে থাকি, নিজেরা ব্যবহার করি (ইচ্ছায় কিংবায় অনিচ্ছায়) সেসব গালির অর্থ ব্যাখ্যাসহ দেয়া আছে । শুধু তাই নয়, কারুকার্যময় অশ্লীল গালিগুলো দিয়ে বাক্য রচনাও করা আছে । প্রায় হাজার খানেক গালি আছে এই বইটিতে । "বগার পোয়া" গালির অর্থ জানেন ? জানেন না ! তো বসে যান গালি অভিধান নিয়ে...

Download Here

Wednesday, August 8, 2018

শানে দরবারে কাগতিয়া-Shane Darbare Kagatia


যদি কাগতিয়া গলির আমি-
বাসিন্দা হতা
,
তবে খলিফায়ে রাসূল গাউছুল আজমের রওজা ধরে-
পাঁচ ওয়াক্তে সালাম করিতাম...!!
!
 
  
মন আমার চাই ছুটে যেতে কাগতিয়া দরবার-"
যেথায় আছে খলিলুল্লাহ খলিফায়ে রাসূল (দঃ)
এর পাক মাজার...!!!


ছকরাতে-মওতে
    হাশরের ময়দানে
    পড়িব গোলাম বিপদে!
   ডাকিবো মুনিব আপনাকে
        রাখিও নূরী চরণে...!!! 



এই কি শিহরণ!
এই কি জাগরণ!
এই কি অনুরণন!
এই কি অনুপ্রেণ!
এই কি স্পন্দন খুশি অগণন!
            পেয়েছি মোর্শেদে আজম সার্থক এই জীবন...!!!
 

“দেখা দাও ইয়া রাসুলুল্লাহ ”নাতে রাসুল (দ:)

ওগো নবী শোনো এ অধমের ডাক,
তোমার লাগি করিতে চাই প্রেমের বাগ।
কোথায় আছ ওগো নবী কাম্লিওয়ালা?
তোমার প্রেমে এ অভাবী দেওয়ানা।
নও গো আমি বকর,ওমর,ওসমান ও আলী,
তোমার প্রেমিক ওয়াছকুরুনী,জামী ও রুমী।
আরো আছো খলিলূল্লাহ ও তাহাঁর খলিফা মোর্শেদী,
আমি করি এ মুনিবের গোলামী।
তোমার প্রেমে এ অভাবীর হয়না যেন বিরতি,
তোমায় না দেখে হয়না যেন মোর উপরতি।

ওগো নবী তুমি আমার জানের জান,
তুমি বিনে এ অভাবীরর হাহাকারের প্রাণ।
তোমার কত আশেকগণকে দিয়েছ তুমি মোলাকাত,
আশেকগণের প্রেমের হয়না আলোকপাত।

যুগের গাউছুল আজম কে করিয়াছিলে তুমি বায়াত,
দয়া কর এ প্রেমিককে, দাও একবার সাক্ষাৎ।

বিশ্ব ধরায় এসেছ তুমি উম্মতের লাগি,
তাইতো তোমায় বলা হয় মায়ার নবী।
দিদার দিয়ে কর এ আশেকের কপালফেরা,
মুনিব গাউছুল আজমের ওসিলায় দিও মোরে দেখা।

মেরাজে গিয়ে দেখেছ তুমি স্বয়ং খোদা,
এ পাপিরে মূর্তিমান দিয়ে দূর কর হৃদয়ের ব্যাথা।

এসো ওগো নবী এ আশেকের নিঝুম নিশির স্বপ্নে,
দেখা দাও ইয়া রাসুলুল্লাহ (দ:) তোমার আশেকের অতি প্রেমে।


লেখকঃ মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান!
মরহুম মাষ্টার কবির আহমদের বাড়ী।সরল,২ নং ওয়ার্ড,বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

Tuesday, February 6, 2018

"মৃত্যুশায়ী পিতার নছিহত" - "পূর্বে প্রকাশের পর, শেষপর্ব"


পাবলিসিটিঃ
খবরদার! আমাকে জাহির করার জন্য একেবারে ৩/৪টি টেক্সী দিয়ে পাবলিসিটি করাবে না। শুধুমাত্র আশপাশের এলাকা যেখানে আমাকে চিনে সে জায়গাগুলোতে মাইকের ভলিউম/শব্দ ছোট করে পাবলিসিটি করাবে
ব্যানারঃ
কবরের উপর কোন প্রকারের শোক ব্যানার টাঙ্গাতে দেবে না। এগুলো সব লোক দেখানো।
নামাজ-রোজার কাফফারাঃ
তরিক্বতে দাখিল হবার পর হতে আমার জানামতে নামাজ-রোজা ক্বাজা বা বাদ যায়নি। কিন্তু এর আগের জিন্দেগীতে কত নামাজ-রোজা বাদ গেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান আমার জানা নেই। তবে মহান মোর্শেদ আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসূল (দঃ) হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রাঃ) কর্তৃক লিখিত “তোহফায়ে আহমদী” গ্রন্থে যে ওমরী ক্বাজার নামাজের নিয়ম পেয়েছি, তার আলোকে ইতোমধ্যে অসংখ্যবার ওমরী ক্বাজার নামাজ আদায় করেছি। এক্ষেত্রে তোমাদের বলা রাখা দরকার- আমার মৃত্যু পূর্ববতী সময়কালিন অসুস্থতা বা অজ্ঞান অবস্থায় যে পরিমাণ নামাজ বাদ যায়, তার একটি হিসাব লিখে তার কাফফারা স্বরূপ কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ.মাদরাসার মিসকিন ফান্ডে দিয়ে দিও।
জানাযার নামাজের পূর্বেঃ
জানাযার নামাজের পূর্বে আমার যে কোন ধরণের অতীতের খারাপ আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে উপস্থিত মুসল্লীগণের কাছে। জানা মতে আমার কাছে কারো সাথে কোন লেনদেন এর হিসাব নেই। এরপরও যদি পাওনার দাবীদার থাকে তহলে তোমরা সকলে তা শোধ করবে। যাদের ব্যক্তিগত কাজ বা ওজর থাকে তাদেরকে জানাযার নামাজের পর চলে যাবার জন্য পরিবারের পক্ষ হতে এজাজত দিয়ে দেবে। কেননা অনেকে তাঁদের জরুরী কাজ-কর্ম ফেলে জানাযায় অংশ নিতে এসে থাকবেন। কবরস্থ করার সময় তরিক্বতপন্থী ভাইদের নিয়ে তোমরা দাফন সম্পন্ন করবে।
আমানত সংক্রান্তঃ যাদের আমানত রয়েছে আমার কাছে-(১) মুহাম্মদ ইয়াছিন (তোমাদের ফুফা)-৭০,০০০/-(সত্তর হাজার) টাকা, যা আমার আলমারিতে আছে। (২) সায়মা সাবিহা কামাল (তোমাদের ফুফাত বোন)-তাঁদের বাবার খরিদা ও মৌরসী জায়গাগুলোর কবলা, খতিয়ান, দাখিলা আমার আলমিরায় আছে।
আমার নিকট পাওনাদারঃ
আমার জানামতে অদ্য তারিখ পর্যন্ত আমার কাছে কেউ কোন প্রকারের নগদ টাকা পাবে না।
আমি যাদের নিকট পাবঃ
(১) মুহাম্মদ আসিফ ইকবাল-ব্যবসায়ী বন্ধু (ফকির হাট রাউজান)-৩৯০০০/- টাকা। (২) মুহাম্মদ নজরুল ভূইয়া- ব্যবসায়ী বন্ধু (ফকির হাট রাউজান)-২৭৮০০/-টাকা। (৩) মুহাম্মদ আবুল-(ডাবুয়া, রাউজান)-৭০০০০/- টাকা (মেয়ের বিয়ের নিয়েছিল)
কয়েকটি জরুরী বিষয়ঃ
(১) মৃত্যুর পর এবং মৃতদেহ দাফনের জন্য ঘর হতে বের করার সময় কোন রকমের কান্নাকাটি করা যাবে না। (২) মেয়েদের গলার আওয়াজ বা কান্নার সুর যেন বাইরে না যায়। (৩) মৃত্যুর পর আমার কোন ছবি বাইন্ডিং করে দেয়ালে টাঙ্গাবে না। (৪) মৃত্যুর এক সাপ্তাহের মধ্যে পৌরসভা হতে মৃত্যু সনদ নিয়ে নেবে। (৫) মৃত্যুর তিনদিন পর চতুর্থদিন ফাতেহা


দিবে, তোমাদের সাধ্যে যা কুলায় তা দিয়ে। হুশিয়ার! ধার-কর্জ করে লোক দেখানো কোন মেজবান দেবে না। (৭) কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মাহফিল ও সম্মেলন সমূহে নিয়মিত শরীক হবে। (৮) যাকাত,ফিতরা,সদকা,দান,কুরবানির পশুর চামড়া সবকিছুই কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ.মাদরাসার মিসকিন ফান্ডে দেবে। (৯) আমার রেখে যাওয়া সম্পদ শরীয়তের নিয়মানুযায়ী যথাযথভাবে বন্টন করে নেবে। কারো প্রতি কোনরূপ জুলুম যাতে না হয়। (১০) তরিক্বতের আদব ও আমল পরিপূর্ণভাবে নিজেরা আমল করবে, অতঃপর তা পরিবারের সদস্যদেরকে আমলের জন্য তাগিদ দেবে। (১১) সর্বদা সকল কাজ পরস্পর সম্মতি ও আলোচনা সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করবে। জীবন সায়াহের এ ক’টি কথার যথাযথ মূল্যায়ন করার চেষ্টা করবে। তোমাদের বাবা,
সুলতানপুর, রাউজান। ১৫/০৯/২০১৫

লেখা সংগ্রহীতঃ ফজলে আহমদী ৫৫তম সংখ্যা, লেখকঃ মুহাম্মদ আবদুল হামিদ।
বর্ণবিন্যাসঃ এস.এইচ রুবেল, শান্তির হাট, রাঙ্গুনিয়া।

Sunday, February 4, 2018

"রাঙ্গুনিয়া কোদালা চা বাগান"



সবুজ বনায়নে ঘেরা অপূর্ব সৌন্দর্যে ভরা কোদালা চা বাগান, যেখানে গেলে মুহুর্তের মাঝে নিজেকে সতেজ করে দেয়। সবুজের সাথে লুকোচুরি মেঘের সন্ধির অপুর্ব দৃশ্য যে কাউকে অবাক করে দেবে। প্রকৃতির অপূর্ব দৃশ্য দেখে মুগ্ধ করবে পর্যটক প্রেমিকদের। চা বাগানের দৃষ্টি নন্দন ব্রিটিশ বাংলো আর পাখির কিচিমিচির শব্দ বিনোদন প্রেমিকদের মুহুতের্র মধ্যে চাঙ্গা করে তুলবে। চা বাগানের চা শ্রমিকদের দৈনন্দিন চা পাতা তোলার দৃশ্য কার না ভাল লাগে। চা বাগানের পাশ ঘেঁষে লুসাই কন্যা কর্ণফুলীর মন মাতানো ঢেউ সকলের দৃষ্টি কেড়ে নেবে নিঃসন্দেহে । চা শ্রমিকদের ক্লান্তিহীন কর্মযজ্ঞে নিজেকে স্বপ্ন দেখাবে ভবিষ্যত চলার পথ। নগর জীবনের গতিহীন একপেশে ক্লান্তিময় জীবন আপনাকে ভরিয়ে দেবে আনন্দের ছোয়া। এবার ঈদে বেড়িয়ে আসতে পারেন কোদালা চা বাগানে।

রাঙ্গুনিয়া কোদালা চা বাগান দেশের শীর্ষ চা-বাগান গুলোর মধ্যে অন্যতম। উৎপাদন ছাড়াও চা বাগানটি ইতিমধ্যেই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে পর্যটন র্স্পট হিসেবে। চা বাগানে প্রতি দিন ছুটে আসছে শত শত ভ্রমন পিপাসু। চা বাগানে পর্যটকদের ভীড়ে মুখরিত হয়ে উঠছে সার্বিক পরিবেশ। বাগানের আর্কষনীয় মনোরম দৃশ্য ধারণ করতে ছুটে আসছে বিভিন্ন ইলেকট্রন্ক্সি চ্যানেল , টেলি ফিল্ম. চলচ্চিত্র নির্মাতারা । সুটিং হচ্ছে নানা ছবি, টেলিফিল্মের। দলবেঁধে বিনোদন পিপাসুরা ছুটে আসছে এই স্পটে। কোদালা চা বাগান এখন ব্যস্তময় এলাকায় পরিণত হয়েছে।

কোদালা চা বাগানের ইতিবৃত্ত:

১৯৭৬ সালে তৎকালীন সরকার ব্যক্তি মালিকানায় লিজ দিয়ে চা-বাগানগুলো ছেড়ে দেন। এর মধ্যে প্লান্টাস বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কোদালা চা-বাগান পরিচালনা করে আসছে। লোকসানের কবলে ১৯৯৩ সালে প্লান্টাস বাংলাদেশ থেকে আনোয়ার গ্রুফ চা-বাগানটি লিজ নিয়ে নেন। আনোয়ার গ্রুপও লাভের মুখ দেখতে না পাওয়ায় ২০০৪ সালে ৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্র্র্যাক কোদালা চা বাগানের লিজ নেন। বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের অধীনে বাংলাদেশ চা বোর্ডের আওতায় কোদালা চা বাগান সরকার থেকে লিজ গ্রহণ করে ব্রাক ২৪শ ৮৫ একর জায়গা চা বাগানের জন্য। বর্তমানে ব্র্যাক বাংলাদেশ ৮শ ৭২ একর জায়গায় চা চাষ ৯শ একর জমিতে রাবার চাষ করেছেন। এছাড়া চা ও রাবার বাগানের পাশাপাশি নানা প্রজাতির গাছের চারা বনায়ন করা হচ্ছে। এছাড়াও আগর চাষ নিম ও মুলি বাঁশের চাষও করা হচ্ছে।

প্লান্টাস বাংলাদেশ ও আনোয়ার গ্রুপ কোদালা চা বাগান করে লাভের মুখ না দেখলেও ব্র্যাক কোদালা চা বাগান লিজ নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে দক্ষ পরিচালনায় চা বাগানটি এখন ব্র্য্রাকের লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দেশের চা শিল্পে কোদালা চা বাগানের চা গুনগত মান ও শীর্ষ চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্টানে দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে।

যেভাবে আসবেন কোদালা চা বাগানে:

সড়ক পথে ও নদীপথে কোদালা চা বাগানে আসা যায়। সড়ক পথে আসতে হলে চট্টগ্রাম শহর থেকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে বিরতিহীন বাসে করে সরফভাটা গোডাউন নেমে সিএনজি যোগে সরাসরি কোদালা চা বাগানে আসা যায়। চট্টগ্রাম শহর থেকে চা বাগানের দুরত্ব ৩০ কিলোমিটার। প্রাইভেট গাড়ী যোগে চা বাগানে অনায়সে আসা যায়। নদী পথে আসতে হলে চট্টগ্রাম শহর থেকে বিরতিহীন বাসে মরিয়ম নগর চৌমুহনী নেমে রিক্সা অথবা সিএনজি যোগে কর্ণফুলি পাড়ে আসতে হয়। কর্ণফুলি নদী পাড় হলেই চোখে পড়বে সুদৃশ্য কোদালা চা বাগান। অগ্রিম অনুমতি ছাড়াই মন চাইলে যখন তখন চলে আসতে পারেন কোদালা চা বাগান। থাকা খাওয়া নিজ দায়িত্বে নিজেকে গড়ে নিতে হবে।

তথ্য সূত্রঃ ইন্টারনেট

Wednesday, January 31, 2018

"মৃত্যুশায়ী পিতার নছিহত" "পূর্বে প্রকাশের পর, দ্বিতীয় পর্ব"


হযরত ইবনে ওমর(রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “যে মুসলমানের অছিয়ত করার মতো কিছু থাকে, তার অছিয়তনামা লিখে না রেখে দুই রাত্রি যাপন করা উচিত নয়। (বোখারী, মুসলিম) । তাই প্রত্যেক মু’মিনের অছিহত লিখে রাখা উচিত। উম্মতে মুহাম্মদী হতে এ আমলটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উপরে উল্লেখিত হাদিছ শরীফ হতে এর গুরত্ব প্রকাশ পেয়েছে। তাই আমিও তোমাদের সুবিধার্থে এবং আমার নিজের প্রয়োজনার্থে তোমাদের কাছে কিছু নির্দেশ/অনুরোধ জানিয়ে গেলাম। আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে এর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন!
মৃত্য পরবর্তী প্রয়োজনীয় সামগ্রীঃ কাফনের কাপড়, আতর, সুরমা, সাবান, গামছা, খাটের উপর দেবার জন্য ১টি গিলাপ আমার আলমিরায় আছে। তবে গোলাপজল কর্পূর ও আগরবাতি কিনতে হবে। লাশ ধৌত করাঃ আমার রূহানী ভাই তরিক্বতপন্থীদের মাধ্যমে আমাকে ধৌত করাবে। মৃত্যুর খবর পৌঁছানোঃ প্রথমে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে খবরখানি পৌঁছাবে। এরপর শাখার তরিক্বতপন্থীগণের নিকট এবং এরপর আত্নীয়-স্বজনের কাছে ও আমার ব্যবসায়ী বন্ধুগনের নিকট ফোনে খবর পৌঁছে দিবে। এ ব্যাপারে আমার ড্রয়ারে রাখা ফোন ইনডেক্স ডায়েরী হতে নম্বর সংগ্রহ করতে পারো। খতমে তাহলিল, খতমে কোরআন এর ব্যবস্থা করাঃ আলহামদুলিল্লাহ্‌! খতমে তাহলীল আমি ইতোমধ্যে শেষ করেছি। এরপরও তোমাদের যদি ইচ্ছা হয় খতমে তাহলীল আদায় করাতে পার। খতমে কোরআন আমার তরিক্বতপন্থী আলেম ও হাফেজ ভাইদের মাধ্যমে আদায় করাবে। আমার নিজের ঘরে বা এলাকার মসজিদে বা আমাদের পার্শ্ববর্তী মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ ১নং শাখা কার্যালয়েও আদায় করাতে পার। আমার গোসল দেবার পর হতে জানাজার জন্য লাশ ঘর হতে বের করার আগ পর্যন্ত আমার দু’পাশে কোরআন শরীফ তেলাওয়াতের ব্যবস্থা করাবে। জানাযার নামাজের ইমামঃ কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ হতে মাননীয় মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেবের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি যাকে পড়ানোর এজাজত দেন তাঁকে দিয়েই জানাযার নামাজ পড়াবে। তবে এক্ষেত্রে মহল্লার মসজিদের ইমাম হতে এযাজত নিবে। জানাযার নামাজ ও দাফনের সময়ঃ * মৃত্যু যদি সকালে হয়, তবে বাদে জোহর বা বাদে আসর জানাযা হবে। * মৃত্যু যদি দুপুরে হয়, তবে বাদে মাগরিব বা বাদে এশাজানাযা হবে। * মৃত্যু যদি বিকেলে হয়, তাহলে রাত দশটার মধ্যে জানাযা হবে। পুরো রাত রেখে দিবে না। * মৃত্যু যদি রাতে হয়, তাহলে সকাল ১১ টার মধ্যে জানাযা হবে। * মৃত্যু যদি ভোররাতে হয়, তাহলে বাদে জোহর জানাযা হবে। মনে রাখবে, দূর থেকে বা বিদেশ হতে কেউ আসার জন্য ফ্রিজে রেখে দিয়ে কারো জন্যে অপেক্ষা করবে না এবং জানাযার নামাজের পর কাফন সরিয়ে আমার মুখ কাউকে দেখাবে না। আল্লাহ্‌ না করুন! আমার মৃত্যু যদি ডাক্তার এবং চিকিৎসা ভুলে বা সড়ক দুর্ঘটনার মতো আকস্মিক মৃত্যু হয়, তাহলে কাউকে দায়ী করে মামলা করবে না এবং অবশ্যই পোস্টমর্টেম হতে আমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করবে। #চলবে

Tuesday, January 30, 2018

"মৃত্যুশায়ী পিতার নছিহত"


স্নেহের সন্তানেরা,

আমার অন্তরের দোয়া তোমাদের সবার কাছে। বয়সের অনেক পথ পেরিয়ে আজ জীবন –মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছি। আল্লাহ্‌ই জানেন কখন এ ধরা হতে বিদায় নিব। তোমাদের ছেড়ে চলে যাবার আগে অনেক কিছু বলার ছিল। সময় পেলে বলব। তবে আজ অতি প্রয়োজনীয় কিছু দিক-নির্দেশনা বিশেষ করে আমার মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে যা তোমারা সঠিক কর্তব্যের সাথে আদায় করার চেষ্টা করবে, প্রথমে জানিয়ে রাখি, তোমাদের মাও অতিশয় বৃদ্বা অবস্থায় আছে। আমার বিদায়ের পরমুহূর্ত হতে তোমার মা বিধবা হবেন। তোমাদের কোন বাসনা যেমন আমি কখনো অপূর্ণ রাখিনি, তেমনি তোমাদের মা’র সকল ইচ্ছাগুলোও তোমারা সর্বোচ্চাকারে পূরণ করার চেষ্টা করবে। তোমাদের মা’র মনে এ ধারনা যাতে না জন্মায় যে, আজ আমার স্বামী নেই বলে ছেলেমেয়েরা আমাকে অবহেলা করছে। আমার বিশ্বাস তোমাদের উপর অফুরন্ত, এরপরও সজাগ থাকার জন্য বলা হলো। সে-ই যুবক জীবন হতে বিরতিহীন চেষ্টা-সাধনা, দৌড়-ঝাপ, দিন-রাতের পরিশ্রম সবকিছুই করেছি সার্বিক জীবনের জন্য। এই ছোট জীবনটাতে অনেক পেয়েছি-অর্থ, সম্মান ও খ্যাতি। মোটকথা, সুখশান্তির অঢেল সম্রাজ্যের অধিকারী না হলেও আল্লাহর রহমতে মোটামুটিভাবে অন্য দশজনের চেয়ে ভাল অবস্থানে সবসময় ছিলাম। তোমাদের দুই ভাইয়ের উচ্চতর শিক্ষা অর্জনে আমার জীবনের আয়ের অনেকগুলো টাকা খরচ হলেও বৃথা যায়নি। আজ তোমারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। ভাল বেতনের চাকুরি করছ। হক্বভাবে জীবন পরিচালনায় সর্বোতভাবে চেষ্টা করবে। ঘরে আমার দুই বউমাও খুব ভাল ও পরহেজগার। আমার ছোট মা-মণি জান্নাতুল মাওয়া আজ কত বড় হয়েছে- স্বামীর ঘরে যাওয়ার পর কিছুদিন তাকে তার মায়ের জন্য চিন্তিত দেখালেও এখন সে শ্বশুরবাড়িতে বেশ মানিয়ে নিয়েছে। আমার মেয়ের জামাইটাও মাশাআল্লাহ বেশ ধার্মিক এবং সামাজিক। অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি। শ্বশুর-শ্বাশুড়িও তাকে বেশ আদরের মধ্যে রেখেছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌! মহান মোর্শেদ গাউছুল আজমের উছিলায় আল্লাহ আমাকে কোনদিকেই অপূর্ণতার মাঝে রাখেননি। তবে একটি বিষয়ে আমার সবসময় অস্থিরতায় কাটে, আর সেটি হচ্ছে কাগতিয়ার মহান মোর্শেদ গাউছুল আজমের তরিক্বতের নেয়ামত পেয়েছি, তবে বৃদ্বাবস্থায়। আমার জন্ম ১৯৪৮ সনে। ১৭ বছর বয়সে ১৯৬৫ সনে মেট্রিকুলেশন পাস করার পর ঐ বছরই চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হই ইন্টারমিডিয়েট ১ম বর্ষে। তোমাদের মত এইচ.এস.সি ১ম বর্ষে ভর্তির সাথে সাথে যদি গাউছুল আজমের মকবুল এ তরিক্বতের সন্ধান পেতাম তাহলে আজ আমার তরিক্বতের বয়স হত ৫০ বছর। তার মানে আমার নিয়মিত আদায়কৃত মোট দরূদ শরীফের পরিমাণ দাঁড়াত প্রয় ২,০২,৭৫,৭৫০ (দই কোটি দুই লক্ষ পঁচাত্তর হাজার সাতশত পঞ্চাশ) বার (৫০ বছর+৩৬৫ দিন +১১১১বার) আমার অজিফার বয়স এখন ১৩ বছর। আমার জানামতে এই ১৩ বছরে এক ওয়াক্ত নামাজও ক্বাজা হয়নি। এক ওয়াক্ত অজিফা শরীফও ক্বাজা করিনি। যদিও আমার বয়স এখন ৬৭ বছর, তারপরও আমার মনে হয় আমার বয়স এখন ১৩ বছর। কেননা তরিক্বত জীবন আরম্ভ হবার পর হতেই আমি পরিপূর্ণ ইসলামি জীবনে প্রবেশ করেছি, যে জীবন মহান আল্লাহর নির্দেশিত এবং প্রিয় রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মনোনিত। হে আল্লাহ! আমার তরিক্বতপূর্ব জীবনের এলোমেলো-অনিয়ন্ত্রিত সময়গুলোর কাফফারা আদায়ের এবং ক্ষমা চাওয়ার সুযোগটুকু দাও। হে মাবুদ! মেহেরবানী কর, মাফ কর। যুগে যুগে শুনে এসেছি পিতার আদর্শে সন্তান আদর্শিত হয়। হে আল্লাহ! তুমি আজ কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজমের দরবার শরীফের সুন্নাতি জীবনের সংস্পর্শে আমার দুই সন্তানকে কবুল করেছ; তাদের মাধ্যমেই আমারও সৌভাগ্য হলো গাউছুল আজমের ছোহবতে যাবার। সন্তানের নেক আমলের ফল্গুধারা দেখে আজ এক পিতারও আশ্রয় হয়েছে এই তরিক্বতের সামিয়ানা তলে। হে আল্লাহ! ঐ সমস্ত বৃদ্ব; যারা এখনো পর্যন্ত সঠিকপথের সন্ধান না পেয়ে দিক-বিদিক ঘুরছে, এদেরকে এই মহান তরিক্বতের সুবাসিত নূরের হাওয়া তাদের অন্তরে প্রবেশ করাও। আমীন! যাক, কথায় কথায় অনেক দূর চলে এলাম। মূল বিষয়ে চলে আসি। #চলবে

লেখা সংগ্রহীতঃ ফজলে আহমদী ৫৫তম সংখ্যা, লেখকঃ মুহাম্মদ আবদুল হামিদ।
বর্ণবিন্যাসঃ এস.এইচ রুবেল, শান্তির হাট, রাঙ্গুনিয়া।

"অপরাজেয় বাংলা"


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে বন্দুক কাঁধে দাঁড়িয়ে থাকা তিন নারী-পুরুষের ভাস্কর্য যেটি সর্বসত্মরের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সেটি 'অপরাজেয় বাংলা'। এর তিনটি মূর্তির একটির ডান হাতে দৃঢ় প্রত্যয়ে রাইফেলের বেল্ট ধরা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। এর মডেল ছিলেন আর্ট কলেজের ছাত্র মুক্তযোদ্ধা বদরুল আলম বেনু। থ্রি নট থ্রি রাইফেল হাতে সাবলীল ভঙ্গিতে দাঁড়ানো অপর মূর্তির মডেল ছিলেন সৈয়দ হামিদ মকসুদ ফজলে। আর নারী মূর্তির মডেল ছিলেন হাসিনা আহমেদ। ১৯৭৯ সালের ১৯ জানুয়ারি পূর্ণোদ্যমে অপরাজেয় বাংলার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় এ ভাস্কর্যের উদ্বোধন করা হয়। তবে অপরাজেয় বাংলার কাছে ভাস্করের নাম খচিত কোন শিলালিপি নেই। স্বাধীনতার এ প্রতীক তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন গুণী শিল্পী ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল খালিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের বেদিতে দাঁড়ানো তিন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিচ্ছবি যেন অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে দেশে সাম্য প্রতিষ্ঠার গান গাইছে। এ ভাস্কর্যে সব শ্রেণীর যোদ্ধার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে...!!!

তথ্য-সূত্র #উইকিপিডিয়া

"কল্পনার জগত থেকে"

রাত সাড়ে ১১ টায় তুর্না নিশিতা ট্রেন।
বিমানবন্দর স্টেশনে শত মানুষের ভীর। একটা
সীটে বসে পেপার পড়ছে এস.এইচ রুবেল। বাম হাত
উঁচু করে সময় দেখতে গেলো তখনই মনে পরলো হাত
ঘড়ি ভুলে ফেলে এসেছে। পকেট থেকে মোবাইল ফোন
বের করতে যাবে তখনই সামনে এসে এক মহিলা
বলল, "১১ টা ১০ মিনিট এখন।" চমকে তাকালো
মহিলার দিকে। কাঁচা পাকা চুলের মধ্য বয়স্ক
মহিলা। নাকের উপরে চশমাটা হাসি খুশি
চেহারাটায় একটা গাম্ভীর্য এনে দিয়েছে।
: আপনি। মানে তুমি ছানোয়ারা না।
: চিনতে পেরেছেন তাহলে?
: একটু কষ্ট হয়েছে। কিন্তু ঠিক চিনে নিয়েছি।
: তাই তো দেখছি। বসতে পারি?
: ও হ্যাঁ! নিশ্চয়।
বলে এস এইচ রুবেল জায়গা করে দিলো। পাশে বসে
হ্যান্ড ব্যাগটা কোলে নিয়ে রুবেলের দিকে
তাকিয়ে হালকা হাসি দিলো। রুবেলের মনে হলো
মানুষের হাসির বুঝি বয়স বাড়ে না। ২৬ বছর আগের
সেই হাসি। যেদিন প্রথম ছানোয়ারাকে দেখেছিলাম। সেদিনের
সেই হাসির সাথে তেমন কোন তফাৎ নেই কানের
পাশে কাঁচাপাকা চুল আর চশমাটা ছাড়া।
: হাত ঘড়ি আনতে ভুলে গেছেন বুঝি?
: ভুলে ফেলে এসেছি। উত্তরায় এসেছিলাম মেয়ের
বাড়িতে। নাতিটা লুকিয়ে রেখেছিলো আমায় আসতে
দেবে না বলে। পরে আর ঘড়ির কথা মনে পরেনি
তাড়াহুড়ো করে বেড়ুতে গিয়ে।
: বাব্বাহ! নানাও হয়ে গেছেন?
: হা হা হা! বয়স কিন্তু থেমে থাকেনি ছানোয়ারা।
আমাদের বয়স যদি রেলওয়ের ট্রেনের মতো হতো
এখনো আমার সেই আগের মত থাকার কথা ছিল।
আর তোমার কিন্ডারগার্টেনে। হা হা হা!
: আপনি এখনো আগের মতোই আছেন। রসিকতাটা
ছাড়েননি দেখছি।
: বুড়ো হলে মানুষ একটু রসিকই হয়।
: আপনি তো তাহলে সেই জন্ম থেকেই বুড়ো। ছেলে
মেয়ে ক'জন?
: দুটোই মেয়ে। বড়জনের নাম ছামিয়া। আর
ছোট মেয়ের...
: রূপকথা!
: তুমি জানলে কি করে।
: এবার আপনি কিন্তু আমায় হাসালেন মশায়।
আপনার সব স্বপ্নের কথা আমায় বলতেন। আপনার ছেলে মেয়েদের নাম কি রাখবেন।
একটা হলে কি রাখবেন দু'টো হলে কি রাখবেন। বউ
কে নিয়ে কোথায় হানিমুনে যাবেন। কোন দোকানে
চা খাবেন। শুধু বউটা কে হবে সেটাই কেউ জানতো
না।
: এতোকিছু তোমার মনে আছে এতো বছর পরেও।
: আমার সব মনে আছে। কোন ব্রান্ডের সিগারেট
খেতেন। কি করে খেতেন। কোন শার্টটা আপনার
পছন্দের ছিল। সব মনে আছে।
: তোমার ছেলে মেয়ে ক'জন?
: আপনার মতই। তবে ছেলে। দুই ছেলে।
: বাহ! আগে জানলে তো বেয়াই হতে পারতাম।
: আপনি চাইলে ওরা ভাই বোন হতে পারতো।
কথাটা বলেই মাথা নিচু করে ফেললো ছানোয়ারা। মুখ
ফসকে এমন একটা কথা বলে ফেলে লজ্জায় পরে
গেল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে নিলো রুবেল।
: হা হা হা! এমন একটা চুটকি সেদিন কোথায় যেন
পড়েছিলাম। চুটকি এমন ছিল...
: আমি জানি। সেখান থেকেই মজা করার জন্যই
বলেছি। আচ্ছা আজ কতোদিন পরে আপনার সাথে
দেখা বলতে পারবেন?
: ঠিক মনে পরছে না। সম্ভবত ২০ পঁচিশ বছর পরে।
: আঠাশ বছর পরে। আমি আপনাকে
পেয়েছিলাম মাত্র দেড় বছর।
এমন সময় মাইকে এনাউন্স হলো, আর কিছুক্ষনের
মধ্যেই কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রাম গামী
তুর্না নিশিতা ট্রেন বিমান বন্দর স্টেশনে প্রবেশ
করবে।
: ছানোয়ারা আমার ট্রেন আসছে। জিজ্ঞেস করতেই ভুলে
গেছি কোথায় যাবে।
: থাক বাদ দেন। আপনার আমার গন্তব্য অনেক আগে
থেকেই আলাদা হয়ে গেছে। আপনার বউ কি অনেক
রোমান্টিক! যেমনটা বলতেন কেমন মেয়ে
বিয়ে করবেন।
: মানুষ কি সব সময় তার ইচ্ছের মতো জীবনটা
পায়।
: মাঝরাতে বউকে নিয়ে বৃষ্টিতে ছাদে গিয়ে
ভিজেন নি কখনো?
: ওর সাইনোসাইটিসের সমস্যা। ঠান্ডায় অনেক
কষ্ট পায়। আর এই বুড়ো বয়সে এসে এসব কে ভাবে
বলোতো। তোমার কথা বার্তা এখনো কিশোরীদের
মতোই।
: একটা কথা আপনাকে বলি। কিছু মনে করবেন না।
কথাটা আপনাকে বলতে না পারলে একটা আফসোস
থেকে যাবে। যদিও এই বয়সে এসে এসব কথা
মানায় না। হাস্যকর শোনায়। তবুও আমার উত্তরটা
খুব দরকার।
: বলো?আমি যে আপনাকে পাগলের মতো ভালবাসতাম
সেটা কি আপনি জানতেন?
: হুম জানতাম। আমার ফেলে দেওয়া সিগারেটের
ফিল্টার গুলো তুমি কুড়িয়ে নিয়ে যেতে। কে যেন
বলেছিলো এসব আমায়। তবে আমার বিয়ের অনেক
বছর পরে। কিন্তু আমার প্রতি তোমার যে একটা
ব্যাপার আছে সেটা বুঝতে পারতাম।
: আমায় আপনার ভাল লাগতো না?
: না লাগলে কি আমার ছোট মেয়ের নাম ছানোয়ারা
রাখতাম।
: স-ত্যি-ই ছানোয়ারা রেখেছেন?
: এই নামেই ওকে সবাই ডাকে।
: ভাল লাগার কথাটা বলেননি কেন?
: আমায় তুমি পছন্দ করতে এই ভাবনাটাই আমার ভাল
লাগতো।
: আপনার বউয়ের জন্য কি বেলি ফুলের মালা নিয়ে
যান।
: ওর গোলাপ পছন্দ। বেলি ফুলের গন্ধ ওর ভাল
লাগে না। কয়েকবার নেয়ার পরে আর নেয়া হয়নি।
সেও তো মেলা আগের কথা। ভুলেই গিয়েছি সেই সব
স্বপ্নের কথা।
: পূর্ণিমারাতে বউকে সারারাত কবিতা আবৃত্তি
করে শোনাবেন বলতেন। রবীঠাকুরের হঠাৎ দেখা,
ক্যামেলিয়া সব মুখস্ত ছিল আপনার।
: হা হা হা! আর কবিতা। একটা ব্যাপার খেয়াল
করেছো। হঠাৎ দেখা কবিতার মতই তোমার সাথে
আমার আবার দেখা হয়ে গেল। তবে একই কামড়ায়
নয়। স্টেশন প্লাটফ্রমে। রেল গাড়ির কামড়ায়
হঠাৎ দেখা ভাবিনি সম্ভব হবে কোনদিন...
: থামলেন কেন। বলুন না। কতো বছর পরে আপনার মুখ
থেকে কবিতা শুনছি।
বিকট হুইসেল গিয়ে স্টেশনের দিকে এগিয়ে আসছে
ট্রেন। ছানোয়ারা বুকটা ধক করে উঠলো। রুবেল
নিজের অজান্তেই দাঁড়িয়ে গেল। সিটের পাশের
লাগেজটা টেনে নিলো।
: ট্রেন চলে আসছে ছানোয়ারা।
: চলেই যাবেন...
কথাটা বলতেই গলার কাছে কান্নার দলা পাকালো।
ছানোয়ারার খুব করে বলতে ইচ্ছে করছে। যা বলেছি
সব মিথ্যে। আমার কোন ছেলে নেই। বিয়ে
হয়েছিলো একবার। টেকেনি। কি করে টিকবে। সে
তো আমার জন্য বেলি ফুলের মালা নিয়ে আসতো না।
বর্ষাকাল ছিল তার অপছন্দের ঋতু। সারারাত
পূর্ণিমায় ভেসে যেতো পুরো শহর। আর সে নাক
ডেকে ঘুমুতো। আমি তো আপনার কাছ থেকেই
ভালবাসা কি জিনিশ আবেগ কি জিনিশ সেটা
শিখেছি। আর কেউ আমায় কি করে সুখে রাখতে
পারতো আপনি ছাড়া। প্রতিবন্ধী দাম্পত্য জীবন
ছিন্ন করে একা একাই বেঁচে আছি ছোট ভাইয়ের
সংসারে।
: ছানোয়ারা আমায় যেতে হবে। ভাল থেকো। ট্রেন
থেমেছে। আমার "জ" বগি। একদম সামনের দিকে।
: সাবধানে যাবেন।
: যাই ছানোয়ারা।
ট্রলি লাগেজ নিয়ে হাঁটা দিলো এস.এইচ রুবেল।
মানুষের ছোটাছুটি তে একটু হিমিশিম খাচ্ছেন।
ছানোয়ারা গুটি গুটি পায়ে পিছনে পিছনে আসছে।
: আচ্ছা আপনি কি এখনো চায়ে তিন কাপ চিনি
খান?
রুবেল থমকে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরলো। মানুষের
ধাক্কায় একটু খেই হারিয়ে ফেললো।
: না। ডাক্তারের বারন। তবুও আধ চামচ খাই।
ছানোয়ারা ভাল থেকো। যাই।
: আপনাকে এক প্যাকেট সিগারেট কিনে দেই?
: সময় নেই ছানোয়ারা। যাই।
হাঁটতে শুরু করলো রুবেল। পিছনে পিছনে ছানোয়ারাও
হাঁটছে। রুবেল ওর বগির প্রায় কাছেই পৌঁছে
গেছে। ছানোয়ারা ভিতরে ভিতরে গুমরে উঠলো।
: আমার হাতটা একটু ধরবেন?
তখনই তীব্র হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন চলতে শুরু
করলো। ছানোয়ারার শেষ কথাটি আর রুবেলের কানে
গিয়ে পৌছালো না। রুবেল দ্রুত লাগেজ নিয়ে "চ"
বগিতে উঠে গেল।
ছানোয়ারা দাঁড়িয়ে আছে আবছা আলোর অন্ধকারে। তুর্না
নিশিতা চলে যাচ্ছে ঢাকা শহর ছেড়ে। তখনি
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলো। ট্রেনের আওয়াজ আস্তে
আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে। ট্রেনটা কি জানে সে
কারো বুকটা ফাঁকা করে নিয়ে যাচ্ছে।
ছানোয়ারা হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি ছুঁলো। ওর মনে হচ্ছে,
আচ্ছা আজ আর ঘরে ফিরে না গেলে কি হয়। আর যদি
কোনদিনই ফেরা না হয়। কি আসবে যাবে। আজ আমি
ভিজবো। অনন্তকালের জন্য ভিজবো। আকাশ, তুই শুধু
আজ আমার জন্যই বৃষ্টি ঝরা। আচ্ছা, রুবেল কি
জানে আমার সাইনোসাইটিসের কোন সমস্যা নেই?



Friday, February 26, 2016

"আমার সম্পর্কে''

অনেক জটিল প্রশ্ন! আসলে নিজের সম্পর্কে কিছু বলা/লিখা অনেক কঠিন একটা কাজ, আমি মনে করি যে, পৃথিবীতে কোন মানুষই তার নিজের সম্পর্কে ১০০% সঠিক তথ্য দিতে পারবে না। মানুষ হিসেবে আমি কেমন মানুষ: আমি অলস, দৈর্য্যহীন, পাগল, অস্থির ও উদাসীন প্রকৃতির এক মানুষ নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাস নেই। আমার মধ্যে প্রথম দোষ/সমস্যা হল আমার রাগটা একটু বেশি। মূলকথা আমি সমাজ রক্ষা করতে জানি না, তাই মানুষ হিসেবে আমি নিজেকে অসামাজিক একটি প্রাণী মনে করি। মিথ্যা কথা বলা আমার একটা অন্যতম দোষ। আমি কারণে অকারণে মিথ্যা বলি, তবে সবসময় মিথ্যা কথা বলিনা। আসলে মিথ্যা কথা বলতে গেলে আমি ধরা পড়ে যাই, কারন আর বাকি দশজন মিথ্যাবাদীর মতো আমি সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দর করে মিথ্যা বলতে পারিনা, তাই ফলাফলস্বরুপ মিথ্যা বলতে গিয়ে প্রায়ই ধরা পড়ে যাই।
আজ এতটুকু...!!!