Posts

Showing posts from February, 2016

"আমার সম্পর্কে''

Image
অনেক জটিল প্রশ্ন! আসলে নিজের সম্পর্কে কিছু বলা/লিখা অনেক কঠিন একটা কাজ, আমি মনে করি যে, পৃথিবীতে কোন মানুষই তার নিজের সম্পর্কে ১০০% সঠিক তথ্য দিতে পারবে না। মানুষ হিসেবে আমি কেমন মানুষ: আমি অলস, দৈর্য্যহীন, পাগল, অস্থির ও উদাসীন প্রকৃতির এক মানুষ নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাস নেই। আমার মধ্যে প্রথম দোষ/সমস্যা হল আমার রাগটা একটু বেশি। মূলকথা আমি সমাজ রক্ষা করতে জানি না, তাই মানুষ হিসেবে আমি নিজ েকে অসামাজিক একটি প্রাণী মনে করি। মিথ্যা কথা বলা আমার একটা অন্যতম দোষ। আমি কারণে অকারণে মিথ্যা বলি, তবে সবসময় মিথ্যা কথা বলিনা। আসলে মিথ্যা কথা বলতে গেলে আমি ধরা পড়ে যাই, কারন আর বাকি দশজন মিথ্যাবাদীর মতো আমি সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দর করে মিথ্যা বলতে পারিনা, তাই ফলাফলস্বরুপ মিথ্যা বলতে গিয়ে প্রায়ই ধরা পড়ে যাই। আজ এতটুকু...!!!

রুদ্রের কাছে তসলিমার চিঠি-ভাল নেই, ভাল থেকো"

Image
[এই লেখাটা "রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর" মৃত্যুর পর তার উদ্দেশ্যে "তসলিমা নাসরিন" লিখেছেন, যা তার একমাত্র গল্পগ্রন্থ 'দুঃখবতী মেয়ে' তে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে 'শিমুল মুস্তাফা' সেটাকে কাঁটছাঁট করে আবৃত্তি করেন। যা অনেকের কাছেই চিঠি বা কবিতা হিসেবে পরিচিত। আমি এখানে মূল লেখাটা পুরোটা দিলাম.. ] ভাল নেই, ভাল থেকো ____তসলিমা নাসরিন প্রিয় রুদ্র, প্রযত্নে আকাশ তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে। তুমি কি এখন আকাশ জুড়ে থাকো? তুমি কি আকাশে উড়ে বেড়াও তুলোর মত? পাখির মত? আমারও খুব পাখি হতে ইচ্ছে করে। আমারও সারা আকাশ উড়ে উড়ে মেঘের সঙ্গে খেলতে ইচ্ছে করে। ছোটবেলায় ছাদে উঠে আকাশ দেখতাম খুব। রাতে তারা গুণতাম। সবাই আমাকে পাগল বলত, বলত পাগল ছাড়া আর কেউ তারা গোণে না। আমি যে কেন রাতভর তারা গুণতাম, বুঝি না। মাঝে মাঝে এত ঘোরের মধ্যে থাকতাম যে আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে দিতাম, যেন নাগাল পাওয়া যাবে, যেন আমি স্পর্শ করলেই নক্ষত্রগুলো ফুলের পাপড়ির মত আমার হাতে ঝরে পড়বে। এখনও ফাঁক পেলেই আকাশ দেখি। জানালার কাছে বিছানা পেতেছি। লেখার টেবিলটি এমন জায়গায় রেখেছি ...

"মৃত্যু যদি আছেই"

 "মৃত্যু যদি আছেই"-----তসলিমা নাসরিন----- লেখা_এস এইচ রুবেল মৃত্যু যদি আছেই, যদি বসেই আছে কোথাও ঝোপঝাড়ে ওত পেতে, দরজার আড়ালে,ছাদে ,অন্ধকার গলিতে,চৌরাস্তায় আসবেই যদি কাছে তবে আজই নয় কেন ! সন্ধ্যায় যখন বারান্দায় দাঁড়াব একা কেউ খুঁজবে না, কেউ ডাকবে না ভেতর ঘর থেকে কেউ আসবে না রাখতে একটি হাত কাঁধে কেউ বলবে না ’কি চমৎকার চাঁদ উঠেছে দেখ’ যদি মৃত্যুর হাতেই দিতেই হয় যা আছে সব, তবে আজ নয় কেন ! আজ সে আসুক, আজই শেষ হোক শূন্যতার সঙ্গে আমার বেহিসেবি সংসার! (কাব্যগ্রন্থঃ জলপদ্য)

‘‘এখনও তুমি’’

‘‘এখনও তুমি’’ —তসলিমা নাসরিন।। লেখা_এস এইচ রুবেল... ভালবাসা বলতে এখনও তোমাকেই বুঝি ঘৃণা বলতে এখনও তোমাকেই সংসার বলতে এখনও তোমাকে বুঝি সুখ বলতেও আমি এখনও তোমাকে। কতটুকু পশু আছে, কতটা হিংস্রতা কতটা দানব থাকে একজন মানুষের দেহে তোমাকে আমুল ছুঁয়ে-ছেনে আমি সমস্ত জেনেছি তোমার ত্বকের নীচে কতটুকু ক্লেদ, কতটা ধূর্ততা চোখের তারায় তুমি কতটা লুকোও পাপ শরীরের ঘ্রাণ শুঁকে শুঁকে আমি সকল বুঝেছি। স্বপ্ন বলতে এখনও তোমাকেই বুঝি কষ্ট বলতে এখনও তোমাকেই। চুম্বনে তোমার লালা থেকে চুষে নিই সংক্রামক ব্যাধি, তোমাকে আরোগ্য করি তোমাকে শুশ্রূষা করি তোমাকে নির্মাণ করি আমার বিনাশে। জীবন বলতে এখনও তোমাকে বুঝি মৃত্যু বলতেও আমি এখনও তোমাকে।

"মনে পড়ে"

"মনে পড়ে" —মহাদেব সাহা। লেখা_এস এইচ রুবেল... এখন শুধু মনে পড়ে আর মনে পড়ে মনে পড়ে মেঘ, মনে পড়ে চাঁদ, জলের ধারা কেমন ছিলো- সেসব কথাই মনে পড়ে; এখন শুধু মনে পড়ে, নদীর কথা মনে পড়ে, তোমার কথা মনে পড়ে, এখন এই গভীর রাতে মনে পড়ে তোমার মুখ, তোমার ছায়া, তোমার বাড়ির ভেতর-মহল, তোমার উঠোন, সন্ধ্যাতারা এখন শুধু মনে পড়ে, তোমার কথা মনে পড়ে; তোমার কথা মনে পড়ে অনেক কথা মনে পড়ে, এখন শুধু মনে পড়ে, এখন শুধু মনে পড়ে; এখন শুধু মনে পড়ে আর মনে পড়ে আকাশে মেঘ থেকে থেকে এখন বুঝি বৃষ্টি ঝরে।

লেখা_এস এইচ রুবেল

 আমিও চাই কেউ একজন ডেডিকেট করুক আমায় এই কবিতার সব গুলো লাইন। .................................... আমিও চাই , ভোর সকালে কেউ আমার আঁচল ধরে টানুক বলুক- আরেকটু ঘুমাও...সকাল হতে অনেক দেরি। তাড়াহুড়োয় বানানো মিষ্টিছাড়া চা খেয়েও কেউ বলুক,বেশ হয়েছে। কেউ তো বলুক, আজ সারাদিন শুধুই তোমার কাছেই অফিস.... যাবোনা কোথাও। আমিও চাই , শাওয়ার শেষে ভেজা চুলে আমায় দেখে কেউ তাকিয়ে থাকুক,নির্নিমেষে... চোখের কোনের বাসি কাজলে মুগ্ধ চোখে অপলকে দেখে থাকুক। কেউ একজন বলতে থাকুক,গুনগুনিয়ে-ভালোবাসি সারাবেলা,রাত্রি, ভোর-অহর্নিশি। আমিও চাই , একটু খানি অবাক সুখের ভালোবাসায় মরে যেতে, মাঝ রাত্তিরে আদরে -ঝড়ে-শীৎকারে নামটি ধরে কেউ আমায় ডাকুক। কেউ তো বলুক , যাসনে মেয়ে আমায় ছেড়ে... তোকে ছাড়া এই পৃথিবী একলা বড় আলুনি লাগে। কেউ তো বলুক, আয় রে মেয়ে পথে নামি ভালোবাসার লোনা জলে বৃষ্টি ভিজে একটু থামি... কেউ তো বলুক , তোর সাথে একটু দেখার তীর্থে আমার অবাক তৃষ্ণার মুগ্ধ স্নান, কেউ তো বলুক ,মেয়ে-তোকে দেখতে এতোটা পথ একলা এলাম।।