Posts

"মৃত্যুশায়ী পিতার নছিহত" - "পূর্বে প্রকাশের পর, শেষপর্ব"

Image
পাবলিসিটিঃ খবরদার! আমাকে জাহির করার জন্য একেবারে ৩/৪টি টেক্সী দিয়ে পাবলিসিটি করাবে না। শুধুমাত্র আশপাশের এলাকা যেখানে আমাকে চিনে সে জায়গাগুলোতে মাইকের ভলিউম/শব্দ ছোট করে পাবলিসিটি করাবে ব্যানারঃ কবরের উপর কোন প্রকারের শোক ব্যানার টাঙ্গাতে দেবে না। এগুলো সব লোক দেখানো। নামাজ-রোজার কাফফারাঃ তরিক্বতে দাখিল হবার পর হতে আমার জানামতে নামাজ-রোজা ক্বাজা বা বাদ যায়নি। কিন্তু এর আগের জিন্দেগীতে কত নামাজ-রোজা বাদ গেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান আমার জানা নেই। তবে মহান মোর্শেদ আওলাদে মোস্তফা, খলিফায়ে রাসূল (দঃ) হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম (রাঃ) কর্তৃক লিখিত “তোহফায়ে আহমদী” গ্রন্থে যে ওমরী ক্বাজার নামাজের নিয়ম পেয়েছি, তার আলোকে ইতোমধ্যে অসংখ্যবার ওমরী ক্বাজার নামাজ আদায় করেছি। এক্ষেত্রে তোমাদের বলা রাখা দরকার- আমার মৃত্যু পূর্ববতী সময়কালিন অসুস্থতা বা অজ্ঞান অবস্থায় যে পরিমাণ নামাজ বাদ যায়, তার একটি হিসাব লিখে তার কাফফারা স্বরূপ কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম.এ.মাদরাসার মিসকিন ফান্ডে দিয়ে দিও। জানাযার নামাজের পূর্বেঃ জানাযার নামাজের পূর্বে আমার যে কোন ধরণের অতীতের খারাপ আচরণের জ...

"রাঙ্গুনিয়া কোদালা চা বাগান"

Image
সবুজ বনায়নে ঘেরা অপূর্ব সৌন্দর্যে ভরা কোদালা চা বাগান, যেখানে গেলে মুহুর্তের মাঝে নিজেকে সতেজ করে দেয়। সবুজের সাথে লুকোচুরি মেঘের সন্ধির অপুর্ব দৃশ্য যে কাউকে অবাক করে দেবে। প্রকৃতির অপূর্ব দৃশ্য দেখে মুগ্ধ করবে পর্যটক প্রেমিকদের। চা বাগানের দৃষ্টি নন্দন ব্রিটিশ বাংলো আর পাখির কিচিমিচির শব্দ বিনোদন প্রেমিকদের মুহুতের্র মধ্যে চাঙ্গা করে তুলবে। চা বাগানের চা শ্রমিকদের দৈনন্দিন চা পাতা তোলার দৃশ্য কার না ভাল লাগে। চা বাগানের পাশ ঘেঁষে লুসাই কন্যা কর্ণফুলীর মন মাতানো ঢেউ সকলের দৃষ্টি কেড়ে নেবে নিঃসন্দেহে । চা শ্রমিকদের ক্লান্তিহীন কর্মযজ্ঞে নিজেকে স্বপ্ন দেখাবে ভবিষ্যত চলার পথ। নগর জীবনের গতিহীন একপেশে ক্লান্তিময় জীবন আপনাকে ভরিয়ে দেবে আনন্দের ছোয়া। এবার ঈদে বেড়িয়ে আসতে পারেন কোদালা চা বাগানে। রাঙ্গুনিয়া কোদালা চা বাগান দেশের শীর্ষ চা-বাগান গুলোর মধ্যে অন্যতম। উৎপাদন ছাড়াও চা বাগানটি ইতিমধ্যেই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে পর্যটন র্স্পট হিসেবে। চা বাগানে প্রতি দিন ছুটে আসছে শত শত ভ্রমন পিপাসু। চা বাগানে পর্যটকদের ভীড়ে মুখরিত হয়ে উঠছে সার্বিক পরিবেশ। বাগানের আর্কষনীয় মন...

"মৃত্যুশায়ী পিতার নছিহত" "পূর্বে প্রকাশের পর, দ্বিতীয় পর্ব"

Image
হযরত ইবনে ওমর(রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “যে মুসলমানের অছিয়ত করার মতো কিছু থাকে, তার অছিয়তনামা লিখে না রেখে দুই রাত্রি যাপন করা উচিত নয়। (বোখারী, মুসলিম) । তাই প্রত্যেক মু’মিনের অছিহত লিখে রাখা উচিত। উম্মতে মুহাম্মদী হতে এ আমলটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উপরে উল্লেখিত হাদিছ শরীফ হতে এর গুরত্ব প্রকাশ পেয়েছে। তাই আমিও তোমাদের সুবিধার্থে এবং আমার নিজের প্রয়োজনার্থে তোমাদের কাছে কিছু নির্দেশ/অনুরোধ জান িয়ে গেলাম। আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে এর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন! মৃত্য পরবর্তী প্রয়োজনীয় সামগ্রীঃ কাফনের কাপড়, আতর, সুরমা, সাবান, গামছা, খাটের উপর দেবার জন্য ১টি গিলাপ আমার আলমিরায় আছে। তবে গোলাপজল কর্পূর ও আগরবাতি কিনতে হবে। লাশ ধৌত করাঃ আমার রূহানী ভাই তরিক্বতপন্থীদের মাধ্যমে আমাকে ধৌত করাবে। মৃত্যুর খবর পৌঁছানোঃ প্রথমে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফে খবরখানি পৌঁছাবে। এরপর শাখার তরিক্বতপন্থীগণের নিকট এবং এরপর আত্নীয়-স্বজনের কাছে ও আমার ব্যবসায়ী বন্ধুগনের নিকট ফোনে খবর পৌঁছে দিবে। এ ব্যাপারে ...

"মৃত্যুশায়ী পিতার নছিহত"

Image
স্নেহের সন্তানেরা, আমার অন্তরের দোয়া তোমাদের সবার কাছে। বয়সের অনেক পথ পেরিয়ে আজ জীবন –মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছি। আল্লাহ্‌ই জানেন কখন এ ধরা হতে বিদায় নিব। তোমাদের ছেড়ে চলে যাবার আগে অনেক কিছু বলার ছিল। সময় পেলে বলব। তবে আজ অতি প্রয়োজনীয় কিছু দিক-নির্দেশনা বিশেষ করে আমার মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে যা তোমারা সঠিক কর্তব্যের সাথে আদায় করার চেষ্টা করবে, প্রথমে জানিয়ে রাখি, তোমাদের মাও অতিশয় বৃদ্বা অবস্থায় আছে। আমার বিদায়ের পরমুহূর্ত হতে তোমার মা বিধবা হবেন। তোমাদের কোন বাসনা যেমন আমি কখনো অপূর্ণ রাখিনি, তেমনি তোমাদের মা’র সকল ইচ্ছাগুলোও তোমারা সর্বোচ্চাকারে পূরণ করার চেষ্টা করবে। তোমাদের মা’র মনে এ ধারনা যাতে না জন্মায় যে, আজ আমার স্বামী নেই বলে ছেলেমেয়েরা আমাকে অবহেলা করছে। আমার বিশ্বাস তোমাদের উপর অফুরন্ত, এরপরও সজাগ থাকার জন্য বলা হলো। সে-ই যুবক জীবন হতে বিরতিহীন চেষ্টা-সাধনা, দৌড়-ঝাপ, দিন-রাতের পরিশ্রম সবকিছুই করেছি সার্বিক জীবনের জন্য। এই ছোট জীবনটাতে অনেক পেয়েছি-অর্থ, সম্মান ও খ্যাতি। মোটকথা, সুখশান্তির অঢেল সম্রাজ্যের অধিকারী না হলেও আল্লাহর রহমতে মোটামুটিভাব...

"অপরাজেয় বাংলা"

Image
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে বন্দুক কাঁধে দাঁড়িয়ে থাকা তিন নারী-পুরুষের ভাস্কর্য যেটি সর্বসত্মরের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সেটি 'অপরাজেয় বাংলা'। এর তিনটি মূর্তির একটির ডান হাতে দৃঢ় প্রত্যয়ে রাইফেলের বেল্ট ধরা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। এর মডেল ছিলেন আর্ট কলেজের ছাত্র মুক্তযোদ্ধা বদরুল আলম বেনু। থ্রি নট থ্রি রাইফেল হাতে সাবলীল ভঙ্গিতে দাঁড়ানো অপর মূর্তির মডেল ছিলেন সৈয়দ হামিদ মকসুদ ফজলে। আর নারী মূর্তির মডেল ছিলেন হাস িনা আহমেদ। ১৯৭৯ সালের ১৯ জানুয়ারি পূর্ণোদ্যমে অপরাজেয় বাংলার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় এ ভাস্কর্যের উদ্বোধন করা হয়। তবে অপরাজেয় বাংলার কাছে ভাস্করের নাম খচিত কোন শিলালিপি নেই। স্বাধীনতার এ প্রতীক তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন গুণী শিল্পী ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল খালিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের বেদিতে দাঁড়ানো তিন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিচ্ছবি যেন অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে দেশে সাম্য প্রতিষ্ঠার গান গাইছে। এ ভাস্কর্যে সব শ্রেণীর যোদ্ধার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে...!!! তথ্য-...

"কল্পনার জগত থেকে"

Image
রাত সাড়ে ১১ টায় তুর্না নিশিতা ট্রেন। বিমানবন্দর স্টেশনে শত মানুষের ভীর। একটা সীটে বসে পেপার পড়ছে এস.এইচ রুবেল। বাম হাত উঁচু করে সময় দেখতে গেলো তখনই মনে পরলো হাত ঘড়ি ভুলে ফেলে এসেছে। পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করতে যাবে তখনই সামনে এসে এক মহিলা বলল, "১১ টা ১০ মিনিট এখন।" চমকে তাকালো মহিলার দিকে। কাঁচা পাকা চুলের মধ্য বয়স্ক মহিলা। নাকের উপরে চশমাটা হাসি খুশি চেহারাটায় একটা গাম্ভীর্য এনে দিয়েছে। : আপনি। মানে তুমি ছানোয়ারা না। : চিনতে পেরেছেন তাহলে? : একটু কষ্ট হয়েছে। কিন্তু ঠিক চিনে নিয়েছি। : তাই তো দেখছি। বসতে পারি? : ও হ্যাঁ! নিশ্চয়। বলে এস এইচ রুবেল জায়গা করে দিলো। পাশে বসে হ্যান্ড ব্যাগটা কোলে নিয়ে রুবেলের দিকে তাকিয়ে হালকা হাসি দিলো। রুবেলের মনে হলো মানুষের হাসির বুঝি বয়স বাড়ে না। ২৬ বছর আগের সেই হাসি। যেদিন প্রথম ছানোয়ারাকে দেখেছিলাম। সেদিনের সেই হাসির সাথে তেমন কোন তফাৎ নেই কানের পাশে কাঁচাপাকা চুল আর চশমাটা ছাড়া। : হাত ঘড়ি আনতে ভুলে গেছেন বুঝি? : ভুলে ফেলে এসেছি। উত্তরায় এসেছিলাম মেয়ের বাড়িতে। নাতিটা লুকিয়ে রেখেছিলো আমায় আস...

"আমার সম্পর্কে''

Image
অনেক জটিল প্রশ্ন! আসলে নিজের সম্পর্কে কিছু বলা/লিখা অনেক কঠিন একটা কাজ, আমি মনে করি যে, পৃথিবীতে কোন মানুষই তার নিজের সম্পর্কে ১০০% সঠিক তথ্য দিতে পারবে না। মানুষ হিসেবে আমি কেমন মানুষ: আমি অলস, দৈর্য্যহীন, পাগল, অস্থির ও উদাসীন প্রকৃতির এক মানুষ নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাস নেই। আমার মধ্যে প্রথম দোষ/সমস্যা হল আমার রাগটা একটু বেশি। মূলকথা আমি সমাজ রক্ষা করতে জানি না, তাই মানুষ হিসেবে আমি নিজ েকে অসামাজিক একটি প্রাণী মনে করি। মিথ্যা কথা বলা আমার একটা অন্যতম দোষ। আমি কারণে অকারণে মিথ্যা বলি, তবে সবসময় মিথ্যা কথা বলিনা। আসলে মিথ্যা কথা বলতে গেলে আমি ধরা পড়ে যাই, কারন আর বাকি দশজন মিথ্যাবাদীর মতো আমি সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দর করে মিথ্যা বলতে পারিনা, তাই ফলাফলস্বরুপ মিথ্যা বলতে গিয়ে প্রায়ই ধরা পড়ে যাই। আজ এতটুকু...!!!